কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:২৯ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৬ পিএম
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলায় মোট ৮১২টি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এবার ৭৬৫টি প্রতিমা বিসর্জন হবে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সর্বদা ৯৫০ জন পুলিশ সদস্য ছোট ছোট টিমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে ফিক্সড পুলিশ স্ট্যান্ড ও ডিবির কুইক রেসপন্স টিম থাকবে।
গত মঙ্গলবার কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স শহীদ আরআই এ.বি.এম আবদুল হালিম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নজির আহমেদ খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পূজার পূর্বে, পূজা চলাকালীন এবং বিসর্জনের সময়—এই তিন ধাপে পুলিশ কাজ করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা টিম ও সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে, যাতে কেউ গুজব ও অপপ্রচার ছড়াতে না পারে। প্রত্যন্ত মণ্ডপগুলোতে নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। মণ্ডপের আশপাশে কোনো মেলা বসতে দেওয়া হবে না।
কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলায় মোট ৮১২টি পূজামণ্ডপে এবারের দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মেঘনা ১১টি, দাউদকান্দি ৪২টি, তিতাস ১৩টি, হোমনা ৪৭টি, মুরাদনগর ১৫১টি, দেবিদ্বার ১০৩টি, বিপাড়া ১৭টি, বুড়িচং ৪২টি, সদর ২৭টি, চান্দিনা ৭১টি, বড়ুরা ৯২টি, লাকসাম ৩৬টি, মনোহরগঞ্জ ১২টি, নাঙ্গলকোট ১১টি, লালমাই ১৭টি, সদর দক্ষিণ ২৪টি, চৌদ্দগ্রাম ২২টি, মহানগর ৭১টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক শ্যামল কুমার সাহা বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
এবারের দুর্গাপূজা শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে এবং শেষ হবে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে। শাস্ত্র মতে এ বছর দেবীর আগমন গজে (হাতি), যা শস্যশ্যামলা হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে দেবীর গমন দোলায়, যা মড়কের আশঙ্কা বয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।