× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আয়া দিয়ে চলে নার্সের কাজ!

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৫ পিএম

আয়া দিয়ে চলে নার্সের কাজ!

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন নার্স থাকা সত্ত্বেও আয়া ও ঝাড়ুদার দিয়ে চলছে শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে আয়া নিবা, সঞ্চিতা ও পারভিনকে এক শিশু ও নারী রোগীর চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। যদিও আয়াদের দাবি রোগীর স্বজনরা তাদের ডেকে নেন বলেই তারা রোগীর ক্যানুলা, ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে দেন। অভিযোগ আছে, কর্তব্যরত নার্সদের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই রোগীরা বাধ্য হয়ে আয়া ও ঝাড়ুদারদের দিয়ে সেবা নিচ্ছেন। তবে, নার্সদের দাবি রোগীর তুলনায় নার্স কম থাকার সুযোগে রোগীর স্বজনরা না ঝুঝে আয়াদের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। আয়ারা গোপনে অনৈতিকভাবে এসব অপকর্ম করেছেন। কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য একটি মাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ জন নার্স রয়েছেন। এসব নার্সরা নিজেদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে বিপাকে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সেবা প্রত্যাশীরা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে সেবা দিচ্ছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নীত করা হয়েছে। তবে, হয়নি জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে উপজেলার ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের চিকৎসাসেবা। এ সুযোগে হাসপাতালে কর্মরত আয়া ও আউট সোসিংএ কর্মরত কর্মীরা অপকর্ম করে থাকেন।

রোগীর স্বজন সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের কুঁড়িকার গ্রামের মজিদ মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ভর্তিকৃত রোগী হাসপাতালে এলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়াও ২শ থেকে ৩শ টাকা ছাড়া রোগীরা সেবা পান না। এ সুযোগে আয়া ও ঝাড়ুদাররা গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল মানুষের ভুল বুঝিয়ে নিজেকে নার্স পরিচয় দিয়ে ১০০ টাকা নিয়ে একটি স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করে দেন। গ্রামের মানুষ অল্প টাকায় সেবা পেতে আয়াদের কাছ থেকেই সেবা নিয়ে থাকেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম জানান, দুপুরে তিনি তার একদিন বয়সি শিশুকে ঠান্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এ সময় নার্সদের কাছে গেলে আয়া সঞ্চিতা নার্স পরিচয় দিয়ে শিশুকে ইনজেকশন পুশ করেন। আয়া সঞ্চিতা ইনজেকশন পুশ করে ২০০ টাকা চাইলে তাকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জানতে পারলাম নার্স পরিচয় দেওয়া সঞ্চিতা হাসপাতালের আয়া।

অপর একজন সেবাপ্রত্যাশী পৌরসভার বাসিন্দা সোলেমান জানান, তিনি ডায়রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু তার স্যালাইন দেওয়ার জন্য কোনো নার্সকে খুঁজে পাননি। পরে তিনি দেখতে পান নিবা নামের একজন আয়া অন্য এক রোগীকে স্যালাইন পুশ করছেন। এতে তিনি নার্সদের দেখা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আয়াকে দিয়েই স্যালাইন পুশ করান।

আয়া নিবা জানান, আমি আয়া হলেও আমি ক্যানোলা ও স্যালাইন পুশ করতে পারি, তাই রোগীরা ও তাদের স্বজনরা অনেক সময় ক্যানোলা ও স্যালাইন পুশ করতে আমাদের ডাকেন। তাই আমরা করে থাকি। এতে মানুষের উপকার হয়। 

আউট সোর্সিং এ কর্মরত ঝাড়ুদার রুমান ও মোবারক জানান, নার্সরা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে রোগীরা আমাদের স্যালাইন ও ইনজেকশন দিতে ডেকে নেন। তাই দিয়ে দেই। তারা এসব কাজ করতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, নার্সদের কাছ থেকে আমরা শিখে নিয়েছি। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ইনচার্জ ও সিনিয়র স্ট্যাফ মিনতি ও প্রিয়া জানান, নার্সরা সঙ্গে থাকলে আয়ারাও কাজ করতে পারে। এছাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট তাই অনেক সময় আয়ারা কাজ করে থাকেন। টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেকে সেবা পেয়ে নার্সদের খুশি হয়ে টাকা দিয়ে থাকেন। টাকা দিয়ে পরে যদি কেউ আবার অভিযোগ তুলেন তাহলে তো কিছু করার নেই।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় জানান, আয়ারা এসব কাজ করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা