আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৩২ পিএম
সাভারের হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী রিমন হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেনÑ বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার গাংনি সরকারপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মো. মানিক মোল্লা (৩৮), ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার হাসপাতাল রোড এলাকার নরেন সরকারের ছেলে ভোলা সরকার ওরফে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০), সাভারের হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকার আলম মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) এবং একই এলাকার হযরত আলীর ছেলে মো. হৃদয় আহমেদ (২৭)।
নিহত রিমন হোসেন (২৩) পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার শংকর পাশা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। তিনি হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকার এমই বিডি টেক লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে প্রায় দেড় বছর ধরে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করে আসছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির জানান, গত বছরের ৩ আগস্ট সাভারের হেমায়েতপুরে এমই বিডি টেক নামের একটি কারখানায় একদল দুর্বৃত্ত হানা দেয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী রিমন হোসেন তাদের বাধা দিলে তারা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। সে সময় হত্যাকারীদের কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। রিমনকে হত্যার পর হত্যাকারীরা তার ব্যবহৃত দুটি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়। পরে দীর্ঘ তদন্তের পর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও আসামিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। একপর্যায়ে গত শনিবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত মানিক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোলা সরকার ওরফে আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলাম ও হৃদয় আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য গ্রেপ্তার আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা মূলত ওই রাতে ফ্যাক্টরিতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মী রিমন বিষয়টি টের পেলে নিজেদের পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে হত্যা করে তারা।