পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:০৯ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:১৭ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসী’ বলে গালি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পরপরই তাকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার তিন বছর পূর্তিতে স্মরণসভার সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে যান। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭১ জন। ঘাটে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান সাংবাদিকদের নৌকায় উঠতে বাধা দেন। একই সময়ে তিন–চারটি নৌকায় মোটরসাইকেলসহ যাত্রী পারাপার হতে দেখা যায়। সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যখন অন্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হচ্ছেন, আমরা কেন সংবাদ সংগ্রহের কাজে যেতে পারব না?
এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি আল-জাজিরার সাংবাদিক হন, আর যেই সাংবাদিক হন, তাতে আমার যায় আসে না। যেতে পারবেন না।’ এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামরা ধরা দেখে তিনি আরও রেগে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা সন্ত্রাসী, আপনাদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী।’
এবিষয়ে ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নূর হাসান বলেন, আমরা মহালয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে বাধা দেন। ঘাটে একবারে ফাঁকা ছিল এবং অন্যান্য ব্যক্তিদেরও মোটরসাইকেল নিয়ে নৌকা পারাপার হতে দেখা গেছে। ইউএনও নিজেও নৌকায় করে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘাট পারাপার হচ্ছিলেন। তাহলে সাংবাদিকদের যেতে বাধা কেন?
বাংলাভিশন টেলিভিশনের সাংবাদিক মোশারফ হোসেন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের সাংবাদিক পরিচয় শুনে রেগে গিয়ে বলেন, ‘আল-জাজিরা সাংবাদিক হন যে সাংবাদিক হন, যেতে পারবেন না।’ অন্যরা যেতে পারলে আমরা কেন যেতে পারবো না, এ কথা বলে তিনি আমাদের বলেন, ‘আপনারা তো সন্ত্রাসী।’ একাধিক সাংবাদিককে এভাবে সন্ত্রাসী বলে গালিগালাজ করতে পারেন না।
এদিকে, ঘটনার সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সাংবাদিকরা তাকে বিষয়টি জানায়। তিনি এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে আউলিয়ার ঘাটের সার্বিক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।