× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রূপপুর প্রকল্প

পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের পিছিয়ে যাচ্ছে

মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:৪৯ পিএম

পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের পিছিয়ে যাচ্ছে

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দীর্ঘ এক দশক ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের তত্ত্বাবধানে অবকাঠামো নির্মাণ শেষে এখন চলছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডের প্রস্তুতি। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে একের পর এক নেতিবাচক খবরে প্রকল্পটি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রকল্প এলাকার আশপাশের মানুষের মনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। আইএইএ’র অনুমোদন ছাড়া এবং নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না করে উৎপাদনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, আইএইএ’র একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১০-২৭ আগস্ট রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ টিম (প্রি-ওসার্ট) মিশন পরিচালনা করে। এরপর সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রেস নোট প্রকাশ করে সফর ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে ধারণা দেয়। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জানানো হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি তিন মাসের মধ্যে রূপপুর প্রকল্প নিয়ে পর্যবেক্ষণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। প্রতিবেদনের সুপারিশ ও শর্তসমূহ পূরণের পরই অনুমোদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি লোডিং সম্ভব হবে। এর আগে কোনোভাবেই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর সুযোগ নেই। ফলে ডিসেম্বরে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি আইএইএ’র প্রি-ওসার্ট বেশকিছু অসংগতি তুলে ধরে নানা সুপারিশ ও পরামর্শ সংবলিত একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশকে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতামতের তিন মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে আইএইএ। এরপর চূড়ান্ত ওসার্ট মিশন পাঠাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। সবকিছু ঠিক থাকলে কেন্দ্রটি তখন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত হবে। পুরো প্রক্রিয়া এ বছরে শেষ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন একাধিক কর্মকর্তা। 

যা নিয়ে সংশয়

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জরুরি পরীক্ষাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক. নন নিউক্লিয়ার টেস্ট, যেটি করা হয় জ্বালানি লোডিংয়ের আগে। দুই. নিউক্লিয়ার টেস্ট, যা করা হয় জ্বালানি লোডিংয়ের পরে। রূপপুরে প্রায় এক হাজার ৭০০টি নন নিউক্লিয়ার টেস্ট করা দরকার, হয়েছে মাত্র ৭৫০টি। প্রকল্পটিতে কারিগরি সমাধান বা বিকল্প উপায়ের নামে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ‘টেকনিক্যাল সলিউশন’ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য প্রায় ২৪.৫ মেগাপ্যাসকেল চাপে হাইড্রোস্ট্যাটিক টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার আগে সার্কিটের সব যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে স্থাপন বাধ্যতামূলক। রূপপুরে সেফটি ভালভ না বসিয়েই পরীক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রতিরোধক তার ব্যবহার করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পের মূল ডিজাইনে বৈদ্যুতিক তারের একটি নির্দিষ্ট মান ঠিক করা থাকে। নিয়ম অনুযায়ী সেটিই দিতে হবে। কোনো কারণে না পাওয়া গেলে ডিজাইনারকে জানাতে হবে। রূপপুর প্রকল্পে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।’

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ অন্তত ৬০ বছর। প্রকল্পটির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণ বিশেষভাবে তৈরি। কিন্তু সেখানে নকশা-বহির্ভূত স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কখনও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ধার করে প্রথম ইউনিটে বসিয়ে অস্থায়ীভাবে পরীক্ষার কাজ করা হয়েছে। মূল ডিজাইনের বাইরে গিয়ে প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে স্থানীয় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছে। মেকানিক্যাল ড্রাফট কুলিং টাওয়ারের ফ্যানগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে এসব বৈদ্যুতিক তার।

এসব বিষয়ে আপত্তি দিয়েছে আইএইএ’র পর্যবেক্ষক দল। তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের আগে এসব ত্রুটি দূর করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের আগে গত মাস পর্যন্ত ১২টি টেকনিক্যাল সমাধান পর্যালোচনাধীন ছিল। যে সেফটি সিস্টেমগুলো চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর পরীক্ষাও করা হয়নি। প্রকল্পের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কাজের ধারাবাহিকতা না রাখা, নির্মাণ কাজে অসংগতি ও ইমারজেন্সি রেসপন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে দুর্বলতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আইএইএ।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যা বলছে

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র যাতে শতভাগ নিরাপদ হয়, সেজন্য পরামর্শ নিতেই আইএইএ’র প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরামর্শ মোতাবেক যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং কমিশনের অনুমোদন পেলে জ্বালানি লোড করা হবে। তার আগে এ কেন্দ্র পরিচালনা করা হবে না। প্রি-ওসার্ট মিশনের পর ফাইনাল ওসার্ট মিশন হবে। সুতরাং প্রি-ওসার্ট মিশনের পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন ‘বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আর প্রি-ওসার্ট মিশনের পর্যবেক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশের জন্য যে প্রি-ওসার্ট প্রতিবেদন আইএইএ দিয়েছে, তা অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা