নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:২৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৩ একর জমি অবশেষে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৭৮ বছর বেদখলে থাকা জমিটিতে ইকোপার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উপজেলার বিশনন্দী ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত ২৩ একর জমির মালিক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভারতে চলে যায়।
স্থানীয় শতাধিক পরিবার সেখানে কৃষিকাজ শুরু করে। দীর্ঘদিন জমিটি ব্যবহৃত হলেও আইনি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
জানা গেছে, ২০২০ সালে সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর অনুসারীরা কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি দখলে নিয়ে বালুর ব্যবসা শুরু করে। পরে ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা জমিটি দখলে নেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন দাবিদারকে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। পরে শুনানি করা হলে দেখা যায়, সকল দাবিদারই ভুয়া। এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস কে মো. মামুনুর রশীদ জানান, জমির বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা হবে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান। জেলা প্রশাসক ১৬ সেপ্টেম্বর জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমিটিতে ইকোপার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে জমিটি সুরক্ষিত থাকবে এবং স্থানীয়রা পর্যটন সুবিধা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
বিশনন্দী ফেরিঘাট জামে মসজিদ ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান জানান, তারা দীর্ঘদিন জমি ব্যবহার করলেও প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে নেয়। এখন জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হচ্ছে, এতে আপত্তি নেই—আবার যেন বেদখল না হয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতিবেদন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ যাচাইয়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।