পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৯ পিএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সীমান্ত ঘেষা বদরগঞ্জের হাসিনা নগরস্থ বিস্তীর্ণ মাঠে নামেই শুধু খোলাহাটী ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্পের কোন প্রদর্শন নেই। মেলার প্রধান আকর্ষণ অবৈধ লটারীর ব্যবসা ও যাত্রাপালার নামে নগ্ন নৃত্যের মহোৎসব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১৮ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে মেলাটিতে সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে। জেলার পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তী ১০-১২ টি উপজেলার মানুষ পুরস্কার প্রাপ্তির লোভে টিকেট কাটতে প্রতিনিয়ত ভীড় করছেন মেলা প্রাঙ্গণে। পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মেগা পুরস্কার প্রাপ্তির আশায় সাধারণ মানুষ ২০ টাকার টিকেট থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকেট ক্রয় করছেন। অনেকেই এনজিও থেকে লোন নিয়ে বা ধার কর্জ করে এই লটারি খেলায় অংশ নিয়ে পুরস্কার না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন। ঋণের টাকা শোধ করতে অনেকের সংসারে অর্থনৈতিক টানপোড়েনের পাশাপাশি স্বামী স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে। ইতোমধ্যেই এই অবৈধ লটারীর নামে জুয়ার বিরূপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় গ্রামীন সমাজে। মসজিদের দানবাক্স গুলোরও রক্ষা নেই চোরের হাত থেকে। অজ্ঞাত চোরের দল দানকৃত টাকাসহ পুরো দানবাক্স ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলা কমিটি'র নেতৃত্বে পার্বতীপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা সমুহের শতাধিক লটারীর টিকিট বিক্রির বুথ বসানো হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার টিকেট বিক্রি করা হয়। পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও বন্ধ নেই টিকেট বিক্রি কার্যক্রম।
মেলায় প্রবেশ টিকেট মেলার ভিতর বিক্রির অনুমোদন থাকলেও আশপাশের গ্রামেগঞ্জে কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে মেলা কমিটির পরিচালক আসাদুজ্জামান নুর কোন সদুত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, মেলার স্থানটি বদরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় হওয়ায় সেখানে আমার পক্ষে সরাসরি কোন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তবে এই (পার্বতীপুর) উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে চোরাগুপ্তা ভাবে বুথ বসিয়ে টিকেট বিক্রয় করা হলেও আমি দমনে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনগনের সার্বিক সহযোগীতা প্রয়োজন, তাহলেই এই অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব।