সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৫ পিএম
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় একটি সেতুর পাশে পানি নিষ্কাশনের পথ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসী।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হরগজ বাজারের চৌরাস্তা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান গলি প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে কাজী শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে বক্তব্য দেনÑ স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন, কৃষক সাইদুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন।
তারা অভিযোগ করেন, হরগজ মোড় থেকে বাজার সড়কের বালুর চর নামক স্থানে অবস্থিত একটি সেতুর উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের একটি স্বাভাবিক পথ ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে রাতের আঁধারে ওই নিষ্কাশন পথটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়।
বেলাল হোসেন বলেন, ব্রিজের উত্তর পাশে হানিফ আলী, ঝর্ণা বেগমসহ কয়েকজন জমি ক্রয় করেন। কিন্তু তাদের ক্রয়কৃত জমির চেয়ে বেশি বাড়তি জমি, যা পানি নিষ্কাশনের যে পথ ছিল তা রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করে ফেলেছে।
কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, স্থানীয় আনোয়ার, ফরিদ ও আলতাফ এই মাটি ভরাটে সহায়তা করেছেন। এতে করে সড়কের দুই পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পানি আটকে যাচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে কয়েক হাজার একর জমিতে পানি জমে গিয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই বালুর চকে কয়েকশ কৃষকের চাষকৃত ভুট্টা, ধান ও বিভিন্ন সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ক্ষতি বিষয়ে আমরা হরগজ ভূমি সহকারী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে গণস্বাক্ষর করে লিখিত অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফ আলী ও ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই মাটি ভরাট করেছি।’
আর এ ব্রিজের মুখে মাটি ভরাট কাজে সহায়তাকারী ফরিদ বলেন, জমির মালিক খুব গরিব, তাদের নিজেদের জমিতে মাটি ভরাট করেছে। তাদের কাছে একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করেছিল, চাঁদা না পেয়ে এবং আমাদের চরিত্র হনন করার জন্য এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আমি হাতে পাইনি। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।