ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুত্বর আহত আনন্দ (১৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি।
নিহত যুবক উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাগাইয়া গ্রামের উল্লাস ব্যাপারিবাড়ীর আবু তাহের মিয়ার ছেলে। নিহতের বাবা গাছতলা ঘাট এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার পাঁচদিন যাবত আড়াই ব্যাপারিবাড়ীর ভুবন গ্রুপের সঙ্গে আলিম সরকারের বাড়ির রুজেন গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আলিম সরকারের বাড়ির রুজেন গ্রুপের কয়েকজন যুবককে আড়াইবেপারির বাড়ির ভুবন গ্রুপের যুবকরা মারধর করে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় সংঘর্ষকারীরা ট্রাফিক পুলিশ বুথসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। ঢাকা-সিলটে মহাসড়ক দখল করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে প্রথমে থানা পুলিশ ব্যর্থ হলেও পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আল আমিন (৩৪), আনন্দ (১৮) ও আবুল মিয়া (৪৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। অন্য আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে আনন্দ গুরুত্বর আহত হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনন্দ মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে নিহত যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের দাবি তার বন্ধুরা মুঠোফোনে কল করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেছে। সংঘর্ষ দেখতে গিয়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে সে গুরুত্বর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।
এ বিষয়ে নিহতের বড়বোন জামাই আব্দুল গনি জানান, তার শ্বশুর একজন পাদুকা ব্যবসায়ী। নিহত যুবক আনন্দ প্রায় সময় বাবা ও বড় ভাইদের সঙ্গে পাদুকা ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। পরিবারে তার ৩ ভাই ও ৬ বোন রয়েছে। ভাইবোনদের মধ্যে আনন্দ ষষ্ঠ। তিনি দাবি করেন ঝগড়া দেখতে গিয়ে সে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
নিহতের বোন সোনিয়া বেগম বলেন, যারা ঝগড়া করছে তাদের বিচার চাই। আমার ভাইতো কারো পক্ষে যায়নি। আমার ভাইকে কেন মেরে রক্তাক্ত করছে। আমি তার বিচার চাই।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, রুজেন ও ভুবন আদিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ করেছে। এরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংঘর্ষে আনন্দ গুরুতর আহত হলে তার পরিবার ঢাকায় মিথ্যা কথা বলে চিকিৎসা করায়। আনন্দের পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলে তার ছেলে রিকশা থেকে পড়ে আহত হয়েছে। আনন্দে মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পক্ষ সত্যতা জানতে ভৈরব থানার স্মরণাপন্ন হন। সংঘর্ষে আহত হওয়ার বিষয়টি থানা পুলিশ সত্যতা নিশ্চিত করে। ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।