মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫০ পিএম
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে সম্প্রতি বেড়েছে সিঁধেল চোর আতঙ্ক। রাতে সিঁধ কেটে মুখোশধারী চোরের দল চুরি করে নেয়Ñ মোবাইল ফোন, নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার। চোরের ভয়ে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে স্থানীয় এলাকাবাসীর। গত এক মাসে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্রায় অর্ধশত বসতঘরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে, এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া কোনো মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি চোর চক্রের কোনো সদস্যও আটক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ দিবাগত রাতে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী এলাকার অটোরিকশা চালক নোমান মিয়ার ঘরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় তার ঘরে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা চুরি করে সিঁধেল চোরের দল।একই কায়দায় গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মতলব পৌরসভার নবকলস, নলুয়া ও মোবারকদী গ্রামের অন্তত ১০টি বাড়িতে সংঘবদ্ধ চোরের দল সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে লুটে নিয়েছে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল। একই সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বহরী ও নলুয়া গ্রামেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় এখন চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে স্থানীয় এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের টহল ও নজরদারি না থাকায় চোর চক্রের দাপট বেড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চোররা ‘সিঁধকাঠি’ নামের শাবলজাতীয় একটি অস্ত্র ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে সুরঙ্গ তৈরি করে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। নবকলস গ্রামের সুশীল বলেন, আমার ঘরের দুই জায়গায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মোবাইল ফোন ও কাপড়চোপড় নিয়ে গেছে। এমন ঘটনা বহু বছর ধরে দেখিনি।
মোবারকদী গ্রামের লোকমান গাজী, আবুল হাসেম প্রধানীয়া, জয়নাল গাজী ও মাস্টার বাড়ির খালেকসহ অন্তত ৮টি পরিবার একই রাতে চুরির শিকার হয়েছেন।
এলাকাবাসী কামাল উদ্দিন বিপ্লব বলেন, এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকের পর এত বড় সিঁধেল চুরির ঘটনা আর ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা গভীর রাত পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে। আর এই চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে সিঁধ কেটে চুরি বহু বছর হয়নি। পুলিশের টহল বাড়াতে হবে, না হলে মানুষ নিজেরাই পাহারা বসাতে বাধ্য হবে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মেদ বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। টহল জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, রাতের টহল ও নজরদারি বাড়ানো এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।