বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৬ পিএম
বরিশালে নদী থেকে বালু কেটে নদীতেই ফেলছে ড্রেজিং বিভাগ। ছবি : প্রবা
নাব্য সংকট রোধে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর ৪৭টি পয়েন্টে চলতি মাসের শুরুতে খনন শুরু করেছে ড্রেজিং বিভাগ। ইতোমধ্যে বরিশাল নৌবন্দরে এ কার্যক্রম চলমান।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল-ঢাকাসহ এ অঞ্চলের নদীগুলোতে নাব্য ফেরাতে যে ধরনের টেকসই ড্রেজিং করা দরকার তার ধারেকাছেও যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। অনেকটা লোকদেখানো ড্রেজিং চলছে বিভিন্ন পয়েন্টে। এবার খননের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।
অবশ্য নৌযান শ্রমিক ও মাস্টাররা নদীর বালু নদীতে ফেলায় এই খননকে অর্থের অপচয় বলে দাবি করেছেন।
বরিশাল নৌবন্দরের কীর্তনখোলা নদীতে টানা ১০ দিন ধরে ড্রেজিং চলছে। পাইপ দিয়ে সেই বালু ফেলা হচ্ছে নদীর মধ্যেই।
একাধিক লঞ্চের স্টাফরা জানান, ধীর গতিতে চলছে খনন। এরই মধ্যে যন্ত্রাংশ ভেঙে যাওয়ায় ক’দিন বন্ধও ছিল। কিন্তু কী পরিমাণ খনন হচ্ছে তো বোঝার উপায় নেই।
পারাবাত লঞ্চের মাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকা-বরিশাল রুটের ৪টি স্পটে এখনও খনন শুরু হয়নি। বিশেষ করে বরিশাল নৌবন্দরে বিকল্প পন্টুনের ব্যাবস্থা না করে খনন করায় লঞ্চ ভেড়াতে বেগ পেতে হচ্ছে। খনন চলাকালীন সকল লঞ্চ বন্দর থেকে সরিয়ে বিকল্প পন্টুনে রাখব। এখানে একদিকে যেমন খনন গভীরে করা হচ্ছে না, অপরদিকে নদীর মধ্যেই বালু ফেলা হচ্ছে।’
সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার মজিবর বলেন, টেকসই ড্রেজিং করার জন্য বন্দর সংলগ্ন কীর্তণখোলা নদীর অন্তত ২০ ফিট গভীরে খনন দরকার।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল বড় লঞ্চে কমপক্ষে ১৬ ফিট পানি দরকার। কিন্তু এবারও তারা বন্দরে ১৫ ফুটের বেশি গভীরে খনন করবে না। এভাবে যেনতেন খনন করে প্রতিবছরই ড্রেজিং বিভাগ অর্থের অপচয় করছে।’
তবে বরিশাল নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ আবুল হাশেম বলেন, ‘নদীতে সঠিকভাবে সার্ভে না করায় ড্রেজিং এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবছর যে ড্রেজিং হয় তা বোঝার উপায় নেই। যে কারণে এবছর শুস্ক মৌসুম আসার আগেই ঢাকা-বরিশাল রুটের অন্তত ৪টি স্পটে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জ, ভোলায় নাব্য সংকটে লঞ্চ ভেড়ানো যায় না। অথচ এবছরও কোটি কোটি টাকায় যে ড্রেজিং চলছে তা পরিকল্পনার অভাবে গচ্চা যাবে।’
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভুইয়া বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে নাব্য সংকট দেখা দেয়া বিভিন্ন নদীর ৪৭টি পয়েন্টে খনন শুরু করেছেন। প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার বালু উত্তোলনে ব্যয় হবে ১২ কোটি টাকা।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে ব্যবস্থা আমাদের আছে, সেই উপায়েই খনন করা হচ্ছে।’