সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:২০ পিএম
সম্মেলনকে ঘিরে তোরণ আর পোস্টারে ভরে গেছে কিশোরগঞ্জ শহর।
দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগ। সঠিকভাবে কাউন্সিলর না করা এমনকি জেলার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অমান্যের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনসহ বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলাসহ বিভিন্ন শাখা থেকে কাউন্সিলর করা হয়েছে ২ হাজার ৯০ জনকে। তবে কাউন্সিলর করা হয়নি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান শিকদারসহ আওয়ামী লীগ আমলে জেল-জুলুম ও নানাভাবে নির্যাতিত অনেককেই।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী বলেন, তারা যা শুরু করেছে টেন্ডারবাজি, সিএনজি স্ট্যান্ড দখল, কমিটি বাণিজ্য এগুলোর পরিণতি ভালো হবেনা।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন শিহাব বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছি। পাঁচবার জেলে গিয়েছি। আমার দুটি কিডনি নষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার আমাকে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট পর্যন্ত করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের পতনে সব দুঃখ ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার দলের জেলা সম্মেলনে আমাকে কাউন্সিলর করা হয়নি। এই দুঃখটা কার কাছে বলব!
অনেককে কাউন্সিলর না করা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বলেন, থানা কমিটিগুলো নির্ধারিতদেরকেই কাউন্সিলর করেছে।
গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একাধিক পদে থাকা জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের তৃতীয়বারের মতো সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান বিশেষ কারণে দলের বৃহত্তর স্বার্থে একাধিক পদে থাকার অনুমোদন দিতে পারেন।
সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ।