মালেশিয়ায় পাচারের চেষ্টা
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ের আস্তানায় বন্দি নারী ও শিশুসহ ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টেকনাফের কচ্ছপিয়া পাহাড়ের চূড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে পুরুষ ২২ জন, নারী ২৩ জন ও শিশু ২১ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক।
জানা যায়, সমুদ্রপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য নানা প্রলোভনের মাধ্যমে প্রায়ই নানা বয়সী মানুষকে টেকনাফ নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সংঘবদ্ধ অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্র গহীন পাহাড়ে নিয়ে তাদের বন্দি করে রাখে। এছাড়া অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণও দাবি করে থাকে চক্রটি। এ কারণে টেকনাফ এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতা টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি আস্তানায় বেশ কিছু লোকজনকে বন্দি রাখা হয়েছে এমন সংবাদ পায়। এরপর নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে টেকনাফের কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে গহীন পাহাড়ের চূড়ায় অপহরণকারী ও মানবপাচারকারীদের বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। এসব আস্তানা থেকে বন্দি থাকা অবস্থায় ৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক গতকাল সাংবাদিকদের জানান, অভিযান চলাকালীন যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া ৬৬ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখাতো। তারা সুবিধাজনক কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করতো। অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রস্তাব দেয়া হতো। কখনও বলা হতো, বিনা অর্থে পাঠানো হবে এবং পরে কর্মস্থলে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধ করা যাবে। এভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টেকনাফের গহিন পাহাড়ে গোপন আস্তানায় জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে পাচারকারীরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন উপকূল থেকে বোট যোগে মালয়েশিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা করেছিল। তারা আরও জানায় যে, পাচারকারীরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছিল।
সিয়াম-উল-হক জানান, মানব পাচার রোধে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।