নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:২৫ পিএম
রাতের আঁধারে লুকিয়ে বরিশাল ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ১৭ বিয়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বরিশাল বিভাগীয় সদ্য সাবেক বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এসময় ট্রাকে করে কাশিপুর বন বিভাগের সরকারি কোয়ার্টারের মালামালও নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে স্থানীয় ঠিকাদার সহ বেশ কয়েকজন তাকে বাঁধা দেয়। এসময় সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
পরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে । গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বন সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর বিভাগের সংযুক্ত করা হয় কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীকে।
বাধাদানকারীদের অভিযোগ, বন কর্মকর্তা কবির হোসেন বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ধার নিয়েছে। ধারের টাকা পরিশোধ না করেই তিনি রাতের আঁধারে বরিশাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলো। খবর পেয়ে পাওনা টাকা উদ্ধারে পাওনাদাররা তাকে আটকে দিয়েছে।
ঘটনাস্থলে ছুটে আসা ব্যবসায়ী রুবেল জানান, নগরীর চাঁদমারীতে বন বিভাগের বাংলোতে তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন কবির হোসেন পাটোয়ারী। কিন্তু কাজের পাওনা ৯ হাজার ৫ টাকা পরিশোধ করেননি। এছাড়া নগরীর ইউনিক থাই গ্লাস অ্যান্ড মেটাল সেন্টারের মালিক পাবেন এক লাখ ৬১ হাজার টাকা।
বরিশাল সদর ফরেস্টার আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, ‘দায়িত্বে থাকাবস্থায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী বিভিন্ন সময় ধার বাবদ আমার কাছ থেকে ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও তিনি বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে আর পরিশোধ করেননি। হঠাৎ করেই রাতে সরকারি বাংলো থেকে মালামাল নিয়ে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমিসহ অন্য পাওনাদাররাও এসেছি।’
তবে পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন সাময়িক বরখাস্ত কবির হোসেন পাটোয়ারী। পাশাপাশি বক্তব্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের অভিশাপ দেন।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, সরকারি অফিস চত্বরে বিশৃঙ্খলার খবরে দ্রুত সেখানে গিয়ে কবির হোসেন পাটোয়ারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রথমে মালামাল হেফাজতে নিলেও পরে কোন পক্ষের অভিযোগ না থাকায় বিষয়টা মিমাংসা হয়ে যায়। পরে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে বন কর্মকর্তাকে যেতে দেওয়া হয়।