× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সুন্দরবনে শামুক নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

অনাথ মণ্ডল, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮ এএম

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে একটি অসাধু চক্র শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে। প্রবা ফটো

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে একটি অসাধু চক্র শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে। প্রবা ফটো

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের নতুন কৌশল হিসেবে একটি অসাধু চক্র শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে। বন-সংলগ্ন নদী-খাল থেকে প্রতিদিন ভোরে এবং গভীর রাতে নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ করে তা ট্রলার ও নৌকায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে। পরে এসব শামুক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ছাড়া এসব শামুক নদীপথে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করছে অসাধু একটি চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থের লোভ দেখিয়ে এই কাজে জড়ানো হচ্ছে প্রান্তিক জেলেদের। এভাবে একদিনই কয়েকশ মণ শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শামুক হচ্ছে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এটি নদী-খালের তলদেশে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে পানির গুণগত মান ঠিক রাখে। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধন করা হলে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নষ্ট হবে না। জলজ প্রাণীদের খাদ্যচক্রেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানায়, এ পাচারচক্র শুধু শামুকই নয়, চিংড়ি আহরণের সময় বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছে। মাছের ঝাঁক সহজে ধরতে নদী-খালের পানিতে মেশাচ্ছে কীটনাশক। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া, কই, টেংরা থেকে শুরু করে অন্যান্য জলজ প্রাণী অচেতন হয়ে ভেসে ওঠে।

জেলেরা তখন জাল দিয়ে অনায়াসে সেগুলো ধরে ফেলে। কিন্তু এতে নদীর বাস্তুসংস্থান ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে।

পরিবেশবিদদের মতে, এসব রাসায়নিক পদার্থ শুধু মাছ বা রেণুকেই মারে না, পানির মধ্যে থাকা অণুজীব, শৈবাল ও পলি জমাকেও ধ্বংস করে দেয়। ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ শক্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। জৈব উৎপাদনশীলতা কমে যায়। এক সময় সেই নদী আর জীববৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের ভেতরের খাদ্যচক্র ও বন্যপ্রাণীর ওপরও।

স্থানীয়রা বলছেন, নদী-খালে শামুক কুড়াতে গিয়ে তলদেশ খনন করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যাও কমছে। সুন্দরবনের যেসব নদী ও খাল এতদিন জেলেদের জীবিকার উৎস ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হওয়ার পথে।

শামুক নিধন ও পাচার বন বিভাগের নজরে থাকায় নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হয়। মাঝে মধ্যে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করে তা অবমুক্ত করা হচ্ছে নদীতে। এর পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ, হরিনগর ও রমজাননগর এলাকার কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছু জেলেকে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিদিন নদী-খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ট্রাকে ভরে তা পাচার করা হচ্ছে। অথচ আমরা নদী রক্ষায় তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখি, কিন্তু শামুক নিধনের ফলে আমাদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক শুধু জলাশয়ের পানির গুণগত মান বজায় রাখে না। বরং তা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও অপরিহার্য। শামুক নিধনে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং জেলেদের জীবিকা দুটোই আজ ভয়ানক হুমকির মুখে।

শ্যামনগর সরকারি মহাসিন ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ড. প্রতাপ কুমার রায় বলেন, শামুক নদীর তলদেশের জৈব পদার্থ খেয়ে পানিকে পরিশুদ্ধ রাখে। একই সঙ্গে মাছ, কাঁকড়া ও অনেক জলজ প্রাণীর জন্য এটি প্রধান খাদ্য। শামুক নিধনে খাদ্যচক্র ভেঙে যায়। এতে নদী-খাল উজাড় হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

স্থানীয় বেসরকারি গবেষণা ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার বলেন, শামুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি শামুক নিধন চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই এ অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, শামুক নিধন ও পাচার নজরে রয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় দরকার। তা না হলে জীববৈচিত্র্যের জন্য প্রচণ্ড হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা