থানায় হাজতির মৃত্যু
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
ওসি শফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম।
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী দুর্জয় চৌধুরীর (২৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ২৭দিন পর অবশেষে কক্সবাজার দায়রা ও জজ আদালতের বিচারকের নির্দেশে চকরিয়া থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দায়ের হওয়া মামলায় চকরিয়া থানার সাবেক ওসি শফিকুল ইসলাম ও চকরিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রাবেয়া খানমসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত রবিবার বিকালে শুনানি শেষে মামলা রেকর্ড করতে নির্দেশ দেন জেলা দায়রা ও জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত জজ মামুনুর রশিদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী রবীন্দ্র দাশ।
অভিযুক্তরা হলেন- চকরিয়া থানার সাবেক ওসি ফিকুল ইসলাম, পুলিশের এএসআই হানিফ মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল, মহিউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল ইসরাক হোসেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম ও সহকারি শিক্ষক জসীম উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মোস্তফা কামালা, অফিস সহায়ক পারভেজ, নৈশ প্রহরী নুর মোহাম্মদসহ অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫জন।
মামলার আইনজীবী রবীন্দ্র দাশ বলেন, গত ২২ আগষ্ট চকরিয়া থানা হেফাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপাযন দেবকে থানায় এসে তার সামনে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। । পরে ২৬ আগষ্ট চকরিয়া থানার সাবেক ওসি শফিকুল ইসলাম ও চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানমসহ ৯জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন নিহত দূর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী। কিন্তু এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করেনি থানা।
তিনি আরও বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা দায়রা ও জজ আদালতে মামলার বাদি কমল চৌধুরী ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ১৫ ধারা আইনে একটি ফৌজদারি এজাহার দাযের করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের বিচারক ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মামুনুর রশিদ গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য্য করেন। আদালতের বিচারক বাদি কমল চৌধুরী এবং মামলার আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আগামি ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থানায় সাবেক ওসি শফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানমসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে লিখিতভাবে জানানোর জন্য এসপি সাইফউদ্দীন শাহীনকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বাদির বাবা কমল চৌধুরী বলেন, গত ২১ আগষ্ট বিদ্যালয়ের চেক জালিয়াতি ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দুর্জয়কে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। আসলে গত ১০-১২ দিন ধরে এই অভিযোগে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। ওই দিন আবারও একই অভিযোগে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি রুমে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরের দিন শুক্রবার সকালে থানা হাজত খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কমল চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মামলায় ওসিসহ পুলিশের চার সদস্য আসামি থাকায় ভিসেরাসহ বিভিন্ন স্থরের চিকিৎসকের সঠিক প্রতিবেদন নাও পেতে পারি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ওসিতৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশসহ মামলার নথি থানায় আসামাত্র মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। তা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।