সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকরাই ওই সব প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। প্রশাসনিক কাজেও বাড়ছে জটিলতা। শিগগিরই ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকেরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৬৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের একজনকে দায়িত্ব দিয়ে ওই সব বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। ৬৩টি বিদ্যালয়ের বেশির ভাগে তিনজন করে শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় অপর দুজন সহকারী শিক্ষক দিয়েই ক্লাস চালানোর কারণে পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় তাঁদের মানতে চান না অন্য সহকারী শিক্ষকেরা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রায় ২ বছর ধরে ৩০ নং পরমেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টিতে ২১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের ৯টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র পাচঁজন। এর মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে। নিয়মিত পাঠদান করেন চারজন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে অসুস্থ বা ছুটিতে থাকলে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রতিদিনই প্রত্যেক শিক্ষককে ৯টি করে ক্লাস নিতে হয়। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে দূর্বল রয়েছে তাদের জন্য আলাদা ক্লাস নিতে হয়।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোর্শেদা আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমিসহ ৯জন শিক্ষক ছিলাম। তবে সম্প্রতি চারজন শিক্ষক বদলি করা হয়েছে। মাসে অন্তত ১০ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে অথবা কোনো সভায় যোগ দিতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। তখন ওই চার শিক্ষক দিয়েই প্রাক্-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চালানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো যায় না। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে লাধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই ২০১৩ সাল থেকে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৬জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাহআলম বলেন, আমাকে মাসের ৩ থেকে ৯ দিন দাপ্তরিক কাজের জন্য উপজেলায় যেতে হয়। এতে ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া যায় না এবং শিক্ষার মান দুর্বল হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিউল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। একই সময়ে এক শিক্ষকের একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে কার্যত পড়াশোনাই হচ্ছে না।
টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সালেহা আক্তার বলেন, গত তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। স্যারদের বলে গত মাসে একজনকে ডিপুটেশনে আনা হয়েছে। এখন আমি সহ চারজন শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক চাই।
৬৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি এটা জাতীয় ইস্যু। কেন্দ্রীয়ভাবে পদোন্নতি বা নিয়োগ না হলে স্থানীয় পর্যায়ে এই পদ পূরণের সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোন চেষ্টা করার প্রয়োজনও নেই।
তিনি আরও বলেন, নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে।