নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪০ পিএম
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান সড়কে অবস্থিত জনতা ব্যাংক বিবি রোড কর্পোরেট শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী নারী গ্রাহক খুরশিদা জানান, বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে ডিপিএসের টাকা তুলতে গেলে নানা টালবাহানা করেন ওই কর্মকর্তা। এর আগে বড় বোনের ডিপিএস ভাঙ্গানোর সময়ে টাকা চেয়ে না পেয়ে ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। গুণধর ওই কর্মকর্তার নাম আশরাফ। তিনি ওই শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জনতা ব্যাংকের ভিজিল্যান্স ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপকের কাছে ইমেইলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে খুরশিদা জানান, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর আমি আমার ডিপিএস ৮৩০০০০৯৯ নম্বর এর টাকা আমার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে উত্তোলন করতে যাই। আমার বোনকে দেখে একজন কর্মকর্তা আমাকে পরে আসতে বলেন। অনেকক্ষণ পর আমার বোন জামাই এসে ওই কর্মকর্তাকে বললে তিনি বলেন, দরখাস্ত করতে হবে। জবাবে আমার বোন জামাই বলেন, দরখাস্ত দেন, সব তো আপনাদের কাছে। এরও কিছুক্ষণ পর তিনি একটি কাগজ দিয়ে বলেন, আমি পূরণ করতে পারব না। পরে আমি অন্য একজনকে দিয়ে পূরণ করে তার কাছে জমা দিলে তিনি খুব ধীরলয়ে কাগজটি নাড়াচাড়া করতে থাকেন। বিভিন্ন জিনিসপত্র গোছাতে থাকেন।
এরপর বলেন, কাকে দিয়ে ফিলাপ করিয়েছেন। আমি একজনের নাম বলি। ওই সময়ে আমার বোন জামাই বলেন, কে ফিলাপ করলো এটা জানার কি খুব দরকার। সঠিক হয়েছে কি-না তা দেখেন।
এ নিয়ে আমার বোন জামাইয়ের সঙ্গে তার তর্ক হলে তিনি একপর্যায়ে কাগজ নিয়ে ম্যানেজারের রুমে ঢোকেন। তখন ম্যানেজার আমাদের ডেকে নেন, ঘটনা শোনেন। পরে তিনি বলেন, আজ হিসেব করে আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে, আপনারা চলে যান। ম্যানেজারের কাছে ওই কর্মকর্তার পরিচয় জানতে পারি, ওনার নাম আশরাফ, ওই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১০ জুলাই আমার বড় বোন পারভীন ডিপিএসের টাকা তুলতে গেলে কর্মকর্তা আশরাফ তার কাছে টাকা চান। বিষয়টি আমার বোন জামাই শুনতে পেয়ে তার কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (আশরাফ) তখন বলেন, টাকা চাই নাই, পেয়ারা খেতে চেয়েছি। তখন তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার কারণেই তিনি আমার বোনকে দেখে সেদিন আমাকে ন্যূনতম সহযোগিতা না করে হয়রানি করতে চেয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল অফিসার আশরাফুল হক বলেন, ‘গ্রাহক পারভীন বেগমের কাছে আমি টাকা চাইনি, পেয়ারা খেতে চেয়েছি।’
এ ব্যাপারে ডিজিএম রোবেল হোসেন জানান, তিনি কেন গ্রাহকের কাছে পেয়ারা খেতে চাইবেন? সরকার তো তাকে বেতন দেয়, বিষয়টি আমি দেখব।