প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১১ পিএম
উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও সিকিম প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। - প্রবা ফটো।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এবং তার কাছাকাছি উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, বিহার ও ত্রিপুরা প্রদেশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামের নিমাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে ভারী, উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী এবং মেঘালয়, আসাম ও সিকিম প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত দেখা গেছে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে উল্লেখ করে তাতে বলা হয়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীগুলোর পানির সমতল ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। উল্লেখিত নদীগুলোর পানি সমতল আগামী দুই দিন বাড়তে পারে ও তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।
এ সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখিত নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানির সমতল বেড়েছে। এই নদীগুলোর পানির সমতল আগামী দুই দিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বয়ে যেতে পারে। ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এ সময়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার ওইসব নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তৃতীয় দিন নদীগুলোর পানির সমতল কমতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী নদীর পানির সমতল ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। অন্যদিকে মুহুরী, সেলোনিয়া, সাঙ্গু, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীগুলোর পানির সমতল কমেছে। এই নদীগুলোর পানির সমতল ২৪ ঘণ্টায় বাড়তে পারে।
এ সময়ে মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীগুলো সতর্কসীমায় বয়ে যেতে পারে। ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার ওইসব নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। দ্বিতীয় দিন নদীগুলোর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন পানি সমতল কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোরাইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, হুপাই ও কংস নদীগুলোর পানির সমতল ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। এই নদীগুলোর পানির সমতল দুই দিন বাড়তে পারে এবং সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলাসমূহের নদীগুলো সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। তৃতীয় দিন নদীগুলোর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটে তিন দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ধারা আরও তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের এলাকাগুলোতে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখানে সাময়িক বন্যা হতে পারে।
এই পানি সিলেট হয়েই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। তাই সিলেটে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও অতিবৃষ্টি বেড়ে যাওয়াকে সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে জানান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ জুন সিলেট অঞ্চলে যে প্রলয়ঙ্করী বন্যা হয়, সেদিন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে একদিনে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক সিলেট শহরে সুরমা নদী উপত্যকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত একটি ম্যাপিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুরমা নদী শহর এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ৩২১.৩৫ কিউবিক মিটার পানি পরিবহন করতে পারে যা অতিবৃষ্টির পানি পরিবহনের জন্য যথেষ্ট নয়।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা অতিবৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ও পরিবহনে হাওর ও নদী বিশেষ অবদান রাখে। কিন্তু ক্রমাগত অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প হাওরগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। ফলে ঘন ঘন বন্যা দেখা দিচ্ছে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আজ বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ জায়গায়; রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের বহু জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি আকারের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য পরিমাণ বাড়তে পারে।
কাল বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সিনপটিক অবস্থা
মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত প্রসারিত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।