এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:১১ এএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:২০ এএম
মাল্টা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত উদ্যোক্তা বাশার তালুকদার। প্রবা ফটো
বাগানে সারিবদ্ধ মাল্টার গাছ। প্রতিটি গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে ডালে ডালে ঝুলছে আধাপাকা মাল্টা। ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বাশার তালুকদারের মাল্টাবাগানে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। এই বাগানে উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজারে। মাত্র ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে সৃজিত বাগান থেকে বছরে আয় করছেন দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া বাগানটিতে চাষ করা হয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, ঝিঙা, করলাসহ নানা সবজি।
জানা গেছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের বেতকাশি গ্রামের বাশার তালুকদার। মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি পাস করে জামিরতলা দাখিল মাদ্রাসার কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ১১ বছর ধরে শিক্ষতা করেন। পাশাপাশি নিজের এক একর জমিতে ৫ বছর ধরে মাল্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এই শোখিন চাষি। তার বাগানে স্থানীয় বারি-২ জাতের মাল্টার ৪ শতাধিক গাছ ও ‘ভেরিগেট’ যা স্থানীয়ভাবে বাংলালিংক নামে পরিচিত আরও একশÑ সব মিলে ৫০০টি মাল্টার চারা রোপণ করেন তিনি। এর ছয় মাস পরই ফল ধরে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর সময়ে ফল বিক্রির উপযোগী হয়। স্থানীয় হাটবাজারে এসব মাল্টা বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ ফল।
বাশার তালুকদার বলেন, বাগানের ফল বিক্রি করছি ২ মাস ধরে, আরও ১ মাস বিক্রি করা যাবে। তবে এবার বাংলালিংক মাল্টার চাহিদা বেশি। টক-মিষ্টি এই ফলটি বেশি কেনেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা। তিনি বলেন, আমার বাগান থেকে গত বছরে দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হয়েছে। এবারও আশা করছি, গত বছরের মতো কাছাকাছি ফল বিক্রির টাকা ঘরে নেওয়া যাবে।
এ বিষয়ে দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, বাশার তালুকদার একজন সফল উদ্যোক্তা। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে উপজেলায় ২৭ হেক্টর জমিতে ৭৩ টন মাল্টা উৎপাদন করেছেন কৃষকরা। বিশেষ করে দৈবজ্ঞহাটী, রামচন্দ্রপুর, বনগ্রাম, চিংড়াখালী ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নে মাল্টার ভালো ফলন হয়েছে। চাষিদের কৃষি অফিস থেকে চারা সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।