মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন। মহেশখালী ও কক্সবাজার নৌরুটে যাত্রীদের জন্য এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে। এই নিয়ম কার্যকর করতে নৌপথের দুইপাড়ে (কক্সবাজার-মহেশখালী) স্থাপন করা হয়েছে পৃথক লাইফ জ্যাকেট স্টপেজ, যেখান থেকে যাত্রার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট নিতে হবে এবং গন্তব্যে পৌঁছে তা ফেরত দিতে হবে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নিয়ম চালু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেদায়েত উল্লাহ।
নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হলো নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। স্পিড বোটে থাকা লাইফ জ্যাকেট পুরনো, ছেঁড়া কিংবা একেবারেই অকার্যকর ছিল অতীতে যাত্রীদের অভিযোগ। অনেক যাত্রায় দেখা যেত, জরুরি অবস্থায় ওইসব জ্যাকেট কোনো কাজে আসার মতো অবস্থায় নেই। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ পায়Ñ যা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে তারা নড়েচড়ে বসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েদ উল্লাহ জানান, যাত্রার সময় যাতে সবাই মানসম্মত ও কার্যকর লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যাত্রীরা টিকিট কাটার সময় লাইফ জ্যাকেট স্টেশন থেকে একটি করে জ্যাকেট সংগ্রহ করবেন এবং যাত্রা শেষে নির্দিষ্ট স্টপেজে তা ফেরত দেবেন। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেকটি লাইফ জ্যাকেট থাকবে নিয়মিত পরিষ্কার, সংরক্ষিত ও পরীক্ষিত- যাতে যেকোনো মুহূর্তে তা ব্যবহার উপযোগী থাকে।
ইউএনও আরও বলেন, ‘নৌপথে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চলাচল করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আগে লাইফ জ্যাকেটের মান নিয়ে যাত্রীদের অনেক অভিযোগ ছিল, তাই এবার আমরা আলাদা স্টেশন চালু করেছি। লাইফ জ্যাকেট নেওয়া এবং ব্যবহারের এই নিয়ম বাধ্যতামূলক, যাতে কেউ অবহেলা না করে। নিয়ম মানলে নৌপথ হবে নিরাপদ, আর যাত্রা হবে নিশ্চিন্ত।
যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেক যাত্রী বলেন, আগে লাইফ জ্যাকেট ছিল কেবল দেখানোর জন্য, কিন্তু এখন প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে ভালো মানের জ্যাকেট পরতে হচ্ছেÑ যা নিঃসন্দেহে একটি নিরাপদ যাত্রার বার্তা দেয়। তবে তারা এও মনে করিয়ে দেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, জ্যাকেটগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সময়মতো নষ্ট জ্যাকেট বদলানোর ব্যবস্থা।
মহেশখালীর সচেতন নাগরিকরা বলেন, ‘নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়Ñ যাত্রীদেরও হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল। মাঝনদীতে লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলা, বা নিয়ম না মেনে চললে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকেই যায়। এজন্য যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানাব, যেন তারা যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাইফ জ্যাকেট পরে থাকেন এবং গন্তব্যে পৌঁছে নির্ধারিত স্থানে তা জমা দেন।