ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৩ পিএম
ফরিদপুর-৪ আসনের আওতাধীন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সপ্তম দিনে আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গায় কোনো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি লক্ষ্য করা যায়নি। আন্দোলনকারীদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে।
দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। যদিও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এর আগে, গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকারীরা ভাঙ্গা থানা, উপজেলা পরিষদ, হাইওয়ে থানা ও একাধিক সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাতেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতকাল রাতে ভাঙ্গা থানা পরিদর্শন করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা জানান, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি রিটের শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে পর্যন্ত তিনি ভাঙ্গাবাসীকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণ করে সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জানান, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গতকালের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।