নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:২৩ পিএম
স্বৈরাচারী শাসনের সময় রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী, আওয়ামী দোসর, নোয়াখালী স্বাচিপের সক্রিয় নেতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থানকারী হিসেবে পরিচিত ডা. সৈয়দ কামরুল হোসেনকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পুনরায় পদায়নের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। এ সময় তারা স্লোগান দেন : ‘স্বৈরাচারের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফ্যাসিস্ট কামরুলের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘দোসর শিক্ষক চাই না, পদায়ন বাতিল করতে হবে’, ‘রাজনৈতিক দালালি চলবে না’, ‘বিতর্কিত শিক্ষক অপসারণ কর, করতে হবে, করতে হবে’।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে তাকে কলেজ থেকে বদলি করা হয়েছিল। অথচ এক বছরের মধ্যে পুনরায় একই প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এ সময় তারা কলেজ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তাদের অভিযোগ, ডা. কামরুল অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সরাসরি ভূমিকা নিয়েছেন। এমনকি আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়াতেও তিনি বাধা দিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হলো মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ চর্চার স্থান। সেখানে বিতর্কিত ও নীতিবিরোধী ব্যক্তিকে যোগদান করতে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী কেফায়েত উল্যাহ বলেন, যাকে আমরা একবার আন্দোলনের মাধ্যমে অপসারণ করেছি, এক বছরের মধ্যে আবার তাকে পদায়ন দেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি স্বৈরাচারী শাসনের সরাসরি সহযোগী ছিলেন, গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো প্রকাশ্যে অধিকার দমনে ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সক্রিয় নেতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান রেখেছেন।
অন্য আন্দোলনকারী ইমন মুৎসুদ্দি বলেন, ডা. কামরুল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সরাসরি ভূমিকা রাখেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় বাধা দেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ চর্চার স্থান। সেখানে স্বৈরাচারের দোসরের মতো বিতর্কিত ও নীতিবিরোধী ব্যক্তিকে যোগদান করতে দেওয়া হলে স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং কলেজের সার্বিক কাজে বাধা সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে বিতর্কিত ব্যক্তিকে যোগদান করতে দেওয়া যাবে না। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হব।
এবিষয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আমিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর নিয়ে আমার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব এবং পদায়ন যেন বাতিল হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি পৌঁছে দেব।