গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
গোপালগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার মো. রেজাউল করিম শেখকে (৪২) তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মুকসুদপুর উপজেলার আদমপুর নতুন বাজারের ওই চিকিৎসকের চেম্বার আল করিম ফার্মেসিও সিলগালা করে দেওয়া হয়।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এ আদেশ দেন। এ সময় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, গোপালগঞ্জের ড্রাগ সুপার বীথি রানী মণ্ডল, পুলিশ ও আনসার-ব্যাটালিয়ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত মো. রেজাউল করিম শেখ মুকসুদপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে। ব্যবস্থাপত্রে তার নামের আগে ডাক্তার লেখা হয়েছে। নামের পরে ডিএমএ ঢাকা ডিগ্রি যুক্ত করা হয়েছে। তিনি কোমড়, বাত, হাঁটু ব্যথা, চর্ম, এলার্জি, ডায়াবেটিস, মা ও শিশু স্বাস্থ্য মেডিসিনে অভিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, বিভিন্ন প্রকার অপারেশন ও দাঁত তোলায় বিশেষ অভিজ্ঞ বলেও সেখানে লিখে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, মো. রেজাউল করিম শেখের কোনো চিকিৎসা সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই। তিনি নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করেছেন। রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন। তিনি রোগী ভর্তি রেখে অস্ত্রোপচারও করে আসছিলেন। অস্বাস্থ্যকর টিনশেডের চেম্বারে রোগী ভর্তি রাখতেন। তিনি তার চেম্বারের ফার্মেসিতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি করতেন। এছাড়া তার ফার্মেসিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত পাওয়া গেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ফোর্স তাকে গোপালগঞ্জে নিয়ে যায়। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠোনো হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি চিকিৎসায় অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতেন। তার চেম্বারে প্রসূতি মৃত্যু ও অঙ্গহানির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে আসছিলেন। তবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রসূতি মৃত্য ও অঙ্গহানির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
আদমপুর বাজারের বাসিন্দা তাইজুল হোসেন জানান, রেজাউল করিম গত ৯ বছর আগে আদমপুর নতুন বাজার মসজিদ এলাকায় আল করিম ফার্মেসি শুরু করেন। পরে তিনি সেখানে চেম্বার খুলে ভুয়াডিগ্রি ব্যবহার করে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া শুরু করেন। এছাড়া চেম্বারে রোগী ভর্তি করে অস্ত্রপচার করে আসছিলেন। একটি ব্যবস্থাপত্রে তিনি দামি দামি একাধিক এন্টিবায়োটিক লিখতেন ও লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি করতেন।