হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩নং কূপ থেকে জাতীয় গ্রেডে যুক্ত হল ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস সংযুক্ত করা হয়। প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে এই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম গত রবিবার দিবাগত রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস ফিল্ডের উদ্বোধন করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক ও বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।
রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের ডিজিএম সুমন বিকাশ দাস জানান, আগামী ১০ বছর কূপটি থেকে পাওয়া যাবে ২৫.৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। যার মূল্য প্রায় চার হাজার সাতশ কোটি টাকা। এ কূপটি রিফ্রেশ করতে খরচ পড়বে ৭৩ কোটি টাকা। কূপটি থেকে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির খবর খুবই আশাবাদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সবচেয়ে সুবিধার হচ্ছে, পাইপলাইন ও প্রসেস প্ল্যান্ট বিদ্যমান রয়েছে। গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্য কোনো জটিলতাও নেই।
জানা গেছে, হবিগঞ্জের বাহুবলের রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের বন্ধ থাকা পুরোনো ৩নং কূপ রিফ্রেশ করার পরে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পেট্রোবাংলা। এ কূপ দিয়ে আগেও গ্যাস সরবরাহ করেছিল তারা। পরে সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে। সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের ওই কূপটিতে ৫ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কওভারের সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে বাপেক্স। আগামী ১০ বছর কূপটি থেকে ২৫.৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়ার্কওভার কাজে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার মতো প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে। আর কূপটি থেকে প্রাপ্ত ২৫.৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দাম (আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য ঘনমিটার ৬৫ টাকা) চার হাজার ৭০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন গ্যাস ফিল্ডগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রশিদপুর-৩ এর পাশাপাশি রশিদপুর-১১ ও ১৩ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প চলমান রয়েছে। সফলভাবে শেষ করা গেলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে ৩নং কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। গেল বছরে কূপটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কূপে অনুসন্ধানের পরে গ্যাসের একটি বড় লেয়ার পাওয়ায় এ বন্ধ হয়ে যাওয়া কূপটিতে নতুন করে কাজ শুরু হয়।