জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:১৩ পিএম
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব সহকারি সাইদার ইসলামকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে ধরঞ্জি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আহত সাইদার রহমানকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের ছেলে ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে কম্পিউটার ল্যাব সহকারি পদে বিদ্যালয়ে সাইদার ইসলামের চাকরি হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চাকরি পেয়েছেন বলে ভয় দেখিয়ে ১০ দিন আগে সাইদারের কাছে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদারের মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে কল করে টাকা দিতে বলা হয়। সাইদার ইসলাম চাঁদা দাবির ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলে এলাহী ও সেনাবাহিনীকে জানান। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাটি ধরঞ্জি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে জানান। তিনি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে জানান, তিনি টাকা চাননি এবং উল্টো সাইদারের বিচার দাবি করেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে সাইদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ নিয়ে গত দুদিন আগে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক হয়নি।
পরে শফিকুল ইসলাম তার ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে কম্পিউটার ল্যাব কক্ষে ঢুকে সাইদার রহমানকে মারপিট করে টেনে বের করে আনেন। এরপর প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই তাকে আবারও বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় সাইদার রহমান গুরুতর আহত হন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুপুরে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ শফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় সাইদারের স্ত্রী সাবিহা সুলতানা থানায় একটি মামলা করেছেন। তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম তার স্বামী সাইদার ইসলামের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই টাকা না দিলে তার স্বামীকে চাকরি করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন শফিকুল। এঘটনায় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে তার স্বামীকে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন। এতে সাইদার ইসলাম গুরুতর আহত হন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলে এলাহী মণ্ডল বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে বিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারি সাইদার ইসলামের কাছে ইউপি সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সাইদার ইসলাম ঘটনাটি আমাকে ও সেনাবাহিনীকে জানায়। সেনাবাহিনী ধরঞ্জি ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাটি জানান। এতে শফিকুল ইসলাম সাইদারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এনিয়ে আজ ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে ল্যাবের কক্ষে ঢুকে সাইদার ইসলামকে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে-করতে বের করে আমার কক্ষে আনেন। সেখানেও তাকে আবারও বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। এঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিনি এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইদার ইসলাম আমার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিলেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোনো সুরাহা করেননি। আজকে (সোমবার) বিদ্যালয়ে গিয়ে সাইদারের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হয়েছে।
পাঁচবিবি থানার ওসি মইনুল ইসলাম বলেন, রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব সহকারি সাইদার ইসলামের স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।