জুয়েল সাহা বিকাশ, ভোলা
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৯ এএম
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৯ এএম
দুইশ হাঁস নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন ভোলার মো. জাকির হোসেন।
দুইশ হাঁস নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন ভোলার মো. জাকির হোসেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ৪০ বছর বয়সি এই খামারিকে। বর্তমানে ৫টি খামারে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হাঁস রয়েছে তার। প্রতিদিন ৬৫ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন তিনি। ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপারী বাড়ির মো. জাহাঙ্গীর ব্যাপারীর ছেলে জাকির হোসেন কার্যত ‘সোনার ডিম’ ফলাচ্ছেন তার খামারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জাকির তার হাঁসের খামারের শ্রমিকদের সঙ্গে নিজেই কাজ করছেন। হাঁসগুলোকে বিল ও মাঠে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন। আবার কখনও তিনি হাঁসগুলোকে ডেকে এনে ধান, ভুট্টা, কুঁড়া ও ভুসিসহ বিভিন্ন খাবারও খাওয়াচ্ছেন। আর হাঁসগুলো গোল হয়ে সেই খাবার গ্রহণ করছে। খাবার শেষে হাঁসগুলো আবার পুকুর ও বিলে নেমে প্রাকৃতিক খাবার খুঁজতে থাকে।
হাঁসের খামারি জাকির জানান, প্রায় ৫ বছর আগে তিনি ২০০টি হাঁস দিয়ে ছোট একটি খামার করেন। এতে কিছুটা লাভবান হওয়ায় পরবর্তী বছর তিনি আরও ৫০০ হাঁস কিনে খামার বড় করেন। পরবর্তীতে প্রতিবছরই খামার বড় করতে থাকেন। বর্তমানে তার ৫টি খামার রয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হাঁস রয়েছে। তার খামারে ৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক তিনি ৬৫ হাজার টাকার ডিম বরিশালের পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তিনি শ্রমিকদের লাখ টাকারও বেশি বেতন পরিশোধ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার ভোলা সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরনোয়াবাদ এলাকায় একটি, ভেদুরিয়ার ইউনিয়নের চর চটমি মারায় দুটি, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নর জাঙ্গালিয়ায় একটি ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চরে একটি খামার রয়েছে।’ খামারের ডিম বিক্রির টাকায় তিনি হাঁসের খাবার কেনেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেন। সব খরচ বাদে প্রতি মাসে তার আয় প্রায় এক লাখ টাকা বলেও জানান তিনি। তিনি নিজেই শ্রমিকদের সঙ্গে পরিশ্রম করায় তার খামারের ব্যবসা আজ এত বড় হয়েছে। আর তার পরিশ্রমের ফলেই তিনি সফল বলে জানান।
জাকির জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাঁসের খামার করলেও তিনি সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ পাননি। হাঁসের কোনো রোগ হলেও তিনি নিজেই বাজার থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ান। আগামীতে তিনি আরও বড় পরিসরে হাঁসের খামার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। এজন্য তিনি সরকারিভাবে সহযোগিতাও চান।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগর কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, ভোলার সাত উপজেলায় ছোট-বড় মিলে হাজারের মতো হাঁসের খামার রয়েছে। সবাইকে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। আর জাকির হোসেনের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। আগামীতে জাকির হোসেনকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।