মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই নার্সের নাম, দুলালী বেগম। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা যায়, ১ সপ্তাহ আগে কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের এক প্রসূতি মেডিকেল চেকআপ করাতে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।এ সময় দালাল চক্রের মাধ্যমে পরিচয় হয় সিনিয়র স্টাফ নার্স দুলালী বেগমের সঙ্গে। পরে দুলালী বেগম ওই প্রসূতি নারীকে জানান, প্রসব বেদনা উঠলে যেন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এমতাবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় প্রসূতির প্রসব ব্যথা শুরু হলে স্বজনরা দুলালী বেগমের কাছে নিয়ে যায়।পরে দায়িত্বে থাকা এই নার্স নরমাল ডেলিভারির কথা বলে কৌশলে রোগীকে তার নিজ বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে
ভুক্তভোগীর স্বামী রিয়াজুল ইসলাম রাজু বলেন, আমি জানতাম দুলালী বেগম আগে থেকেই এসব কাজ করেন। কিন্তু আমার বাচ্চাটি মারা যাওয়ার বিষয়টি মানতেই পারছি না। ওই নার্স বলেছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। আমি কম টাকায় আমার বাড়িতে আপনার স্ত্রীকে নরমাল ডেলিভারি করব। তাই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বাড়িতে নিয়ে যাই। তার ভুল চিকিৎসা কারণে আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করবে তাই যেন করে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স দুলালী বেগম হাসপাতালে আসা প্রসূতি নারীদের টার্গেট করে দালাল চক্র লেলিয়ে দেন। পরে দালালদের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে প্রসূতি নারীদের প্রসব বেদনা উঠলে তার বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভপাত ঘটান। এতে প্রসূতি নারীসহ নবজাতকদের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত নার্স দুলালী বেগম বলেন, আমি হাজার হাজার বাচ্চা ডেলিভারি করি। কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি। হাসপাতালে যেসমস্ত রোগীরা ভরসা পায় না, তারাও এখানে আসে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করেন, আমার কাছে দিনে কত লোকজন আসে। তিনি আরো বলেন, রাজুর স্ত্রী আমার আত্মীয় হয়। তাই আমি ডেলিভারি করেছি। বাচ্চাটি পেটেই মারা গেছে। বিষয়টি সমাধান হয়েছে। এখানে অভিযোগের কিছু নেই। তবে বাসায় ডেলিভারি করানো আইনসঙ্গত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেনি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। দুলালী বেগম একজন সিনিয়র নার্স এবং আমাদের স্টাফ। তার দায়িত্ব ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা দেওয়া, প্রসূতিদের সেবা প্রদান করা তার কাজ নয়। তিনি বাসায় এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছেন এ বিষয়েও শুনেছি। এটা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। যদি অভিযোগ পাই, অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।