মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:০৯ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৪৭ পিএম
কিশোরগঞ্জ পৌর শহরে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি : প্রবা
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন ওয়েল্ডিং কারখানা গড়ে উঠেছে। ওয়েল্ডিং কারখানার বেগুনি আলোকরশ্মি, লোহালক্কড় পেটানোর শব্দ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এমন কারখানার সংখ্যা ২ শতাধিক। শহরের প্রধান স্টেশন সড়ক ও ঈশা খাঁ সড়কে দীর্ঘদিন এসব কারখানা থাকলেও এখন এ দুটি সড়ক ছাড়িয়ে আবাসিক এলাকায় ওয়েল্ডিং কারখানা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কারখানার কোনো অনুমোদন নেই।
শহরের আবাসিক এলাকা বত্রিশ, নগুয়া, ফিশারি সড়ক, রাখুয়াইল, গাইটাল, কোর্ট রোড, কলাপাড়া, শোলাকিয়া, খড়মপট্টি, চরশোলাকিয়া, বয়লা, তারাপাশা, নিউটাউন, উকিলপাড়া, হয়বতনগর, পুরাতন কোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় একাধিক ওয়েল্ডিং কারখানা ও ওয়ার্কশপ গড়ে উঠেছে। কিন্তু অধিকাংশ কারখানা ও দোকানেরই বৈধ লাইসেন্স নেই।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও পৌর আইনের তোয়াক্কা না করে এসব কারখানার মালিকরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
সাধারণত ওয়েল্ডিং কারখানার ভেতরে ও পেছন দিকের বর্ধিত স্থানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কথা। কিন্তু কারখানাগুলো অত্যন্ত ছোট পরিসরে স্থাপিত হওয়ায় রাস্তার ওপর ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে দেখা যায়। এতে পথচারী, বিশেষ করে অল্পবয়সি শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ছাড়া কারখানাগুলোর লোহালক্কড় ও স্টিলের (ড্রামশিট) প্রচণ্ড শব্দ এবং বিভিন্ন লোহা ও ইস্পাত গলানোর অ্যাসিডের বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকাবাসী নানা সমস্যায় ভুগছেন।
শোলাকিয়ার নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ওয়েল্ডিং কারখানার কারণে তার ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে আসতে যেতে প্রতিদিন অসুবিধায় পড়তে হয়। তা ছাড়া এসব কারখানার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকার শিশু শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিভিন্ন আবাসিক এলাকার একাধিক অভিভাবক ও মায়েরা জানান, কারখানার প্রতিনিয়ত উচ্চশব্দ, ঝালাই মেশিনের আলোসহ অনেক সময় অ্যাসিডের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাদের মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে।
কারখানার মালামালের কারণে অনেক সময় ছোট সড়কগুলোও বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়েল্ডিং থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মি চোখের কর্নিয়া নষ্ট করে দিতে পারে। তা ছাড়া বিভিন্ন লৌহজাত উপাদান গলানোর কাজে নাইট্রিক অ্যাসিডের বর্জ্য ও বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি করতে পারে।’
কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা তৈরি পৌর আইনের পরিপন্থি। তবে অনেক এলাকায়ই কারখানা গড়ে উঠেছে যাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে এসব কারখানা বন্ধ ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য ও সহযোগিতা নেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘শহরের আবাসিক এলাকাগুলোয় ওয়েল্ডিং কারখানা যেকোনো জেলা শহরের তুলনায় বেশি; যা আইনের পরিপন্থি। জনস্বাস্থ্য ও পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’