ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নে বিএনপির একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে রুহুল কুদ্দুস (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়। এছাড়া গুলিসহ তিনজনকে আটক করলেও পরে পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মসজিদ মোড় এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে আতংক বিরাজ করছে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মো. রাসেল পারভেজ সম্প্রতি একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে রুহুল কুদ্দুস অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শনিবার বিকেলে কাজী শাহিনুর রহমান ওরফে কালা বাপ্পীর নেতৃত্বে একদল লাঠিসোঁটা সজ্জিত যুবক ওই স্কুলছাত্রকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
এ ঘটনার জেরে শনিবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাহাপুরের মসজিদ মোড় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থিত গ্রুপ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মো. নুরুন্নবীর নেতৃত্বে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় রাসেল পারভেজ গ্রুপের লোকজন ও স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এসময় অস্ত্রধারী কালা বাপ্পী গ্রুপের লোকজন জোর করে আটককৃত তাদের তিন সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি রাসেল পারভেজ ও তার সমর্থকরা গতকাল দুপুরে একটি প্রতিবাদ সমাবেশও করেন।
আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে রাসেল পারভেজ বলেন, ‘আমি ধানের শীষের কান্ডারি জাকারিয়া পিন্টুর রাজনীতি করি। আমার অনুষ্ঠানে আসার কারণে আমাদের এক ভাইকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। গুলিবর্ষণের পাশাপাশি গত রাতে আমার অফিসে হামলার চেষ্টাও করা হয়েছে। আটক করা তিন অস্ত্রধারীকে পুলিশে দিলেও তারা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’
অপরদিকে, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বাচ্চাদের মধ্যে পুরনো একটি বিষয় নিয়ে একটু ঝামেলা ছিল। কিন্তু সেটিকে বড় করে দেখিয়ে রাসেল পারভেজের লোকজনই আমাদের লোকজনের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। আমাদের কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা থানায় মামলা করেছি।
এলাকাবাসীর দাবি, এখন প্রায়ই অজুহাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মত ঘটনা ঘটায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কাজী শাহিনুর রহমান বাপ্পী ওরফে কালা বাপ্পী ও মো. নুরুন্নবীর ব্যবহৃত মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ওসি ম. আসম আব্দুন নূর বলেন, ছোটখাটো বিষয় থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে স্কুলছাত্রকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশের কাছ থেকে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।