রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার মরদেহে পেট্রোল ছিটানো ব্যক্তি নজরুল ইসলাম নজিরকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা করেছে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নাসের মাতুব্বরপাড়ার আকবর শেখের ছেলে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে তাকে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ দুটি মামলায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাতজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত সোমবার রাতে নুরাল পাগলের ভক্ত রাসেল মোল্লাকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো, ক্ষতিসাধন, চুরি, জখমের অভিযোগে নিহতের বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩৫০০-৪০০০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ থানায় মামলা করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, নিহত রাসেলের হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম নজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপু, বিল্লু ও সোহান সরদার, অভি মন্ডল রঞ্জু ও মাওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা আবু সাঈদ, মো. রাসেল শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৌহিদি জনতা। বিক্ষোভ থেকে হামলা চালানো হয় নুরাল পাগলার দরবার শরীফে। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা। সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে নুরাল পাগলের দরবারে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপর, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। নিহত হয় নুরাল পাগলের ভক্ত রাসেল মোল্যা।
স্থানীয়রা বলেন, ২৩ আগস্ট মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা। এরপর তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে তাকে কবর দেন এবং কবরের ওপরে ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়, যা সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলমানদের কেবলা কাবা শরীফের মতো দেখতে। তাই এ নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছিলেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা দরবারে হামলা চালায় এবং দরবারের ভেতরে থাকা নুরাল পাগলের কবর ভেঙে দেন। সেই সঙ্গে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে তা পুড়িয়েও দেওয়া হয়।