রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৩০ পিএম
ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশের হিসেবে খ্যাত বরগুনার বিষখালী নদী। পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর এবং আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় ইলিশের আর আগমন নেই। জেলে-জীবন এখন শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই। একদিকে নদীতে ডুবোচর, অন্যদিকে শিল্পবর্জ্য, নিষিদ্ধ জাল, মা ইলিশ নিধন এবং গরম পানির তাপে পুড়ছে দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশের আবাসস্থল।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিষখালী নদীর মোহনায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার, বলেশ্বরে ১১ দশমিক ৪২ কিলোমিটার, আন্ধারমানিকে ১২ কিলোমিটার এবং পায়রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে জেগে উঠেছে ডুবোচর। এ কারণে ইলিশের প্রজনন ও আগমনপথে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বাধা।
পায়রা নদীর জেলে মিজান বললেন, ইলিশ লবণাক্ত পানিতে থাকলেও ডিম পাড়ার জন্য মিঠা পানিতে আসে। কিন্তু ডুবোচরে আটকে গিয়ে ফিরে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রে। আর জাল ফেললে উঠছে পলিথিন—মাছ নয়। ডুবোচরগুলো খনন না করলে নদীতে ফিরবে না ইলিশ। একই কথা জানালেন তালতলীর জেলে মামুন, যিনি বললেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গরম পানি আর পলিথিন নদীতে ফেলা হচ্ছে। এখন ইলিশ তো দূরের কথা, অন্য মাছও কমে গেছে। সেকারনে জেলে পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।
বরগুনার চারটি প্রধান নদীতে একসময় প্রায় ৮০ হাজার জেলে ইলিশ ধরতেন। এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। ডালভাঙ্গা গ্রামের জেলে নাইম বলেন, দিনভর জাল ফেলেও খরচের টাকাও উঠে না। লোকসানের কারণে ইলিশ ধরা ছেড়ে দিয়েছি। ইলিশের ভাণ্ডার আজ নিস্তব্ধ।
শুধু বিষখালী নয়, ডুবোচর ও মানবসৃষ্ট কারণে ইলিশ কমেছে পায়রা, বলেশ্বর ও আন্ধারমানিক নদীতেও।
বরগুনা শহরের ইলিশপ্রেমী ক্রেতা আল-আমিন বলেন, বিষখালির ইলিশ মানেই অতুলনীয় স্বাদ। নদী খনন আর দূষণমুক্ত না করলে এই স্বাদ হয়তো শেষ প্রজন্মের কাছেও পৌঁছাবে না।
‘আমরা ধরা’ সংগঠনের সমন্বয়ক মুসফিক আরিফ বলেন, নদী খনন ও দূষণ রোধ ছাড়া ইলিশ রক্ষা অসম্ভব। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন জানান, মোহনা থেকে নদীর প্রবেশপথে গভীরতা কমে গেছে। এজন্যই ইলিশ ফিরে আসছে না। নদী খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।