ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:২৩ পিএম
প্রবা ফটো।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা কাফনের কাপড় পরে ও ঝাড়ু হাতে অবস্থান নেন রাস্তায়। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসনে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়ার মুক্তি।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এর আগেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ভাঙ্গার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা ‘কাফনের কাপড় পরে এসেছি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরব না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা বাঁশ, কাঠের টুকরা ও ব্যারিকেড বসিয়ে সড়ক এবং রেলপথ পুরোপুরি অবরোধ করে রাখেন।
রেল অবরোধের কারণে খুলনা থেকে ঢাকাগামী ‘নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হামিরদী ইউনিয়নের হামিরদী এলাকায় রেললাইনে আটকা পড়ে। এতে ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এদিকে অবরোধের ফলে ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, আমাদের দুই ইউনিয়নকে পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা না হলে এবং আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে মুক্তি না দেওয়া হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল জানান, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাসড়কে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় এক হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অবরোধকারীরা জানান, ‘আমরা কাফনের কাপড় পরে এসেছি- এটা আমাদের আত্মত্যাগের প্রতীক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কোনো ভয়ভীতিতে আমরা পিছু হটবো না।’
উল্লেখ্য, এর আগেও গত সপ্তাহে একই দাবিতে তিন দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। দুইদিন বিরতির পর রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে ফের নতুন করে অবরোধ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।