সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৭ পিএম
উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি তদারকি করছেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। প্রবা ফটো
সিলেট নগরীতে অবৈধভাবে দখলকৃত ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ অভিযানে সরাসরি তদারকি করছেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। শনিবার (১৩ সেপ্টম্বর) দুপুর ২টায় বন্দরবাজার হেড পোস্ট অফিসের সামনে থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে নগরীর কিনব্রিজ, বন্দরবাজার হয়ে জিন্দাবাজার ঘুরে নগর ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
এ সময় বিভিন্ন মার্কেটের সামনের দোকানের মালামাল ফুটপাত থেকে অপসারন ছাড়াও ফুটপাত ও রাস্তার পাশে ভাসমান দোকান ভ্যানগাড়ি উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজ ও আশেপাশের সড়কে হকারদের উপস্থিতি পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করছিল। যানবাহন চলাচলে অসুবিধা ও সাধারণ জনজীবনে সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, কিনব্রিজকে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই এ এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হোক।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, এর সুফল সবাই পাবেন, ১৫ দিনের মধ্যে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে, উচ্ছেদ অভিযানকে সফল করতে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানিয়েছিলেন, কিনব্রিজ থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে এবং ব্রিজে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করা হবে।এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দক্ষিণ সুরমার ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
পরে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমাবাসী জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করে ব্রিজে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কিনব্রিজ সুরমার দুই তীরের জনগণের জন্য যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সেতু। ব্রিজে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হলে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হবেন।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক স্থানীয় রাজনৈতিক ও পরিবহণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সভায় সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য পরিবহণ নেতৃবৃন্দ কিনব্রিজে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের প্রস্তাব বাতিলের জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও এ দাবিকে সমর্থন করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম কিনব্রিজে মোটরসাইকেল চলাচল আপাতত বন্ধ না করার ঘোষণা দেন।