অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৫ এএম
কাপ্তাইয়ের সাফছড়ি এলাকার জমিতে চাষকৃত বিলাতি ধনিয়া পাতা। শুক্রবার তোলা। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কাপ্তাইয়ের সাফছড়ি, দেবতাছড়ি, সাক্রাছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এই সুগন্ধি ও আকর্ষণীয় ধনিয়া পাতার বাম্পার ফলন হয়েছে। চাহিদা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহও বেড়েছে। অল্প খরচে বেশি লাভ আর সহজ চাষ পদ্ধতির কারণে এই ধনিয়া পাতা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথ সুগম করছে।
সম্প্রতি উপজেলার কাপ্তাই-ঘাঘড়া সড়কের সাফছড়ি, দেবতাছড়ি, সাক্রাছড়িসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, সড়কের পাশে সারি সারি করে সাজানো হচ্ছে বিলাতি ধনিয়া পাতা। এই ধনিয়া পাতাগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষি এবং সরবরাহকারীরা। স্থানীয় বাজারসহ শহরাঞ্চলে এই ধনিয়া পাতার ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। তা ছাড়া প্রতি বছরই ধনিয়া পাতা চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা।
কাপ্তাই কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় এই বিলাতি ধনিয়া পাতার ভালো ফলন হয়েছে। তা ছাড়া অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় ধনিয়া পাতা চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। একবার বীজ বুনলে কয়েক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এই পাতা। ফলে অনায়াসে বারবার পাতা সংগ্রহ করা যায়। যার কারণে এটি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা রিজয় তনচংগ্যা, মিলন কান্তি তনচংগ্যাসহ বেশ কয়েকজন ধনিয়া পাতা চাষি জানান, তারা পাহাড়ে বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি এটি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। বর্তমানে তারা পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ধনিয়া পাতা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরে বিক্রি করছেন। এই ধনিয়া পাতা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া এটি সহজ পদ্ধতিতে চাষ করা সম্ভব বলে অনেক নতুন চাষি ধনিয়া পাতা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে তারা জানান।
ওয়াগ্গা সাক্রাছড়ি এলাকার ধনিয়া পাতা চাষি বাদিরাম তনচংগ্যা জানান, এই ধনিয়া পাতা পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাগানের নিচে এবং আনাচে-কানাচে চাষ করা সম্ভব। যার ফলে আলাদা কোনো জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া এটি চাষ করে কমবেশি সবাই সফলতা পেয়ে থাকে। ফলনও হয় বাম্পার। যার ফলে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করছে অনেক কৃষক পরিবার।
কাপ্তাই কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ে চাষকৃত ধনিয়া পাতা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও রাসায়নিক সার-বিহীনভাবে উৎপাদন করায় একদিকে যেমন এর চাহিদা বেশি, অন্যদিকে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে নেওয়া হয় বিভিন্ন জেলায়। এতে কাপ্তাইয়ের কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইমরান আহমেদ জানান, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিলাতি ধনিয়া পাতার ভালো ফলন হয়ে থাকে। এ বছরও ভালো ফলন হয়েছে। এতে কাপ্তাইয়ের প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক স্বাবলম্বী ও উপকৃত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় ধনিয়া পাতা চাষে স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।