নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৩ এএম
নোয়াখালীতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ।
নোয়াখালীতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ। এর মধ্যে ৩২৫টি জীবিত ও ১০০টি মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়ার লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। উদ্ধার কাজে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সহায়তা করেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জীবিত কচ্ছপগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিকটবর্তী জলাশয়ে অবমুক্ত করা হবে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পাচারচক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কচ্ছপ সংগ্রহ করে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া কচ্ছপ স্থানীয়ভাবে ‘কড়ি কাইট্টা’ নামে পরিচিত।
কচ্ছপের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা পানির তলদেশ পরিষ্কার রাখে এবং শৈবাল ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ খেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুস্থ রাখে। কচ্ছপের সংখ্যা হ্রাস পেলে জলজ পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, কচ্ছপ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী তফসিল-১ ভুক্ত রক্ষিত বন্যপ্রাণী। এ প্রাণী শিকার, হত্যা, সংগ্রহ, পরিবহন বা বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ এ অপরাধে জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।