দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:২০ পিএম
সিট না পেয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ফ্লোরে শিশুদের চিকিৎসা চলছে। ছবি : প্রবা
দিনাজপুর জেলায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার পর শুরু হয় কনকনে হিমেল হাওয়া। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশা। ভোরে কুয়াশা বেশি থাকায় সড়কে দিনের বেলায়ও যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘু নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে। এতে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৬ ভাগ। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সোমবার ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবেই ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা।
তিনি বলেন, এ সপ্তাহে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। জানুয়ারিতে বেশি থাকবে শীত। সে সময় কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। ক্রমান্বয়ে কমছে তাপমাত্রা। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত বেশি অনুভূত হচ্ছে শীত। বাড়ছে শীতজনিত রোগ। এতে নাজেহাল শিশুসহ বয়স্করা।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। দিনাজপুরের হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। হঠাৎ রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকরা।
জেলার হাসপাতালগুলোর সূত্র জানাচ্ছে, শীতজনিত রোগের কারণে এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি বেশির ভাগ শিশুই এখন জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আজ (১৪ ডিসেম্বর) দিনাজপুর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি শয্যায় শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে অনেক শিশুকে। রোগীর চাপে নার্স ও চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্মরত স্টাফনার্স মোছা. মোমেনা বেগম জানিয়েছেন, এবার কোল্ড ডায়রিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪০-৫০টি শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।
আড়াই মাস বয়সি একটি শিশু নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মরিয়ম বেগম। বিরল উপজেলার ভাড়াডাঙ্গী এলাকা থেকে আসা এই নারী জানান, তার শিশুর কয়েক দিন ধরে সর্দি-কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। শীতের কারণে নিউমোনিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকাল অফিসার ডা. সোহেল রানা জানিয়েছেসন, ‘বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ জন। আজ (১৪ ডিসেম্বর) শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৭।’
দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। বাড়ছে কুয়াশা। ছবি : প্রবা
উত্তরের ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম কবির জানালেন, তাদের হাসপাতালে ক্রমাগত বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. বোরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, অরবিন্দ শিশু হাসপাতালসহ জেলার ১৩ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিচ্ছে ৩ শতাধিক শিশু।