পিরোজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
বাগেরহাটের সংসদীয় আসনগুলোকে নতুন করে ভাগ করায়র সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্ধ রয়েছে পিরোজপুর থেকে ঢাকা এবং খুলনার মধ্যে বাস চলাচল। সংসদীয় আসন বিভাজনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার সকাল থেকে ৪৮ ঘন্টার অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অবরোধের সময়সীমা শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাড়িয়ে আবারো ৭২ ঘণ্টা করা হয়। বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেওয়ায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরগামীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরী কাজে গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে কেউ কেউ ব্যবহার করছেন ব্যাটারি চালিত গাড়ি, সিএনজি এবং মোটরসাইকেল। গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবার ভোগান্তির সঙ্গে সময় এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিক আলিম সিকদার বলেন, বাগেরহাটের সংসদীয় আসন ভাগ করাকে কেন্দ্র করে এই সমস্যার সৃষ্টি। পিরোজপুর জেলা থেকে ঢাকা এবং খুলনাসহ বেশ কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক রফিক শেখ বলেন, অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এতে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে আমরাও সমস্যায় পড়েছি। গাড়ি চলাচল না করায় আমাদের ইনকাম বন্ধ হয়ে গেছে।
সোবাহান শেখের স্ত্রী বলেন, আমি বরিশাল থেকে এসেছি খুলনা যাব। আমার স্বামী অনেক অসুস্থ, স্ট্রোকের রোগী। আমি গরিব মানুষ এত খরচ করে খুলনায় যাব আমার কাছে সেরকম টাকা নেই। আর এরকম কষ্ট করে গেলে আমার স্বামী যে কোন মুর্হুতে অঘটন ঘটতে পারে।
অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘অফিসের কাজে ঢাকায় যাব। কিন্তু এসে দেখি কোনো পরিবহন ঢাকায় যাচ্ছে না। সঠিক সময় ঢাকা না যেতে পারলে আমার অনেক ক্ষতি হবে। অতি দ্রুত সমস্যা সমাধান করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো উচিত।’
পিরোজপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাগেরহাট সংসদীয় আসনকে কেন্দ্র করে অবরোধ দিয়েছে স্থানীয়রা। এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না করলে বাস মালিকেরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
প্রসঙ্গত স্বাধীনতার পর থেকে বাগেরহাটে সংসদীয় চারটি আসন ছিল। এবার একটি আসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।