× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোটি টাকার রেসকিউ বোট অকেজো আজও তিস্তাপাড়ে

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০০ পিএম

কোটি টাকার রেসকিউ বোট অকেজো আজও তিস্তাপাড়ে

নীলফামারীর ডিমলায়  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহের  জন্য  কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে  দুটি উদ্ধারকারী নৌকা (রেসকিউ বোট) বরাদ্দ দেওয়া হয়। একটি স্থানান্তরিত করা হয় ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ডনের সাইড ঘাট এলাকায় অপরটি একই উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাগলপাড়া এলাকায়। 

স্থানীয়রা বলছেন,  বোট দুটি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার না হওয়ায় সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি টাকার এই সরকারি সম্পত্তি এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়,  ২০২০ সালে একটি এবং ২০২১ সালে আরও একটি উদ্ধারকারী নৌকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি নৌকার দাম এক কোটি টাকারও বেশি। এ  নৌযানের যাত্রীর ধারণক্ষমতা ৮০ জন,  দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, প্রস্থে ১২.৫ ফুট। এ বোটের গতি  ঘণ্টায় ৭ নটিক্যাল মাইল।

তথ্যমতে, প্রতিবছর এসব নৌকার রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও রং করার জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও  কোনো কার্যক্রমই বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবস্থাপনার খরচের টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকর করেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ নৌকার ক্রু ও সহকারী মিলে ৩ জনের বেতন-ভাতা নিয়মিত তুলছেন।  যার পরিমাণ বছরে কয়েক লাখ টাকা।সরেজমিন দেখা যায়, বছরজুড়ে নৌকা দুটি অকেজো অবস্থায় ঘাটে বাঁধা থাকে,  রোদ ও বৃষ্টিতে লোহায় মরিচা ধরেছে, জানালা ও কেবিন ভেঙে গেছে, ইঞ্জিন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এক সময় যে নৌকা দুটি দিয়ে দুর্যোগকালে মানুষকে উদ্ধার করা হতো, সেগুলো এখন ভাঙাচোরা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বন্দরখড়িবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান শেখ বলেন, আমরা শুনেছি  নৌকা দুটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ গত বছর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা তেমন কোনো কাজ করতে দেখিনি। মেরামতের এই টাকা কার পকেটে গেছে, সেটা কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌকার ক্রু জানান, ২০২১ সাল থেকে নৌকা দুটি এখানে রয়েছে। গত ১০ মাস থেকে আমাদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। মেরামতের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রু বলেন,  এ পর্যন্ত  কোনো প্রকার মেরামত করা হয়নি, রং করা তো দূরের কথা, ইঞ্জিনে এক লিটার মবিলও পরিবর্তন  করা হয়নি। তিস্তাপাড়ের অনেকে বলেন, ভেবেছিলাম ভরা বন্যায় আমরা নৌকা দিয়ে মানুষ ও গবাদিপশু, আমাদের মালামাল নিরাপদে সরাতে পারব।  কিন্তু  নৌকা দুটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।  তাহলে এত টাকা খরচ করে এই নৌকা দুটি কেনার দরকার ছিল না। ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান ও খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জানান, এই নৌকা দুটি সরকার দিয়েছে মানুষের জীবন বাঁচাতে,  কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম অবহেলায় এই নৌকা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।  আমরা মিটিংয়ে একাধিকবার এ বিষয়টি অবগত করেছি, কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, নৌকা দুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হচ্ছে না, এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি, আমিও গুরুত্বসহকারে বিষয়টি নিয়েছি। খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নৌকা দুটি কীভাবে সচল করা যায় তার  উদ্যোগ নেব। 

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, এই নৌকা দুটি বন্যার  বিপদকালীন  সময়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।  এ নৌকা দুটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকাটা  দুঃখজনক। এই বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত  মেরামত ও সচল করার  ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘আমি এ বছর  নতুন যোগদান করেছি। এর আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই বিষয়টি ভালো জানবেন।  যেহেতু এটি একটি সরকারি সম্পদ ও মানুষের জানমালের বিষয় জড়িত,  তাই এই সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  

প্রতিবছর নদী ভাঙনে তিস্তাপাড়ের মানুষের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠাহর করা দূরূহ ব্যাপার। স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্ধারকারী নৌকা দুটি যদি সচল করা হয়, তবে অনেক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আমরা রেহাই পাব ও  বন্যায় অপ্রত্যাশিত  প্রাণহানি ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। তাই তারা দ্রুত নৌকা দুটি মেরামত ও নিয়মিত ব্যবহারের জোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা