চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
মাধ্যমিক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে তিন দফায় রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে। শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে একবার রেজিস্ট্রেশনই যথেষ্টÑ সেখানে তিন দফায় করানো হচ্ছে শিক্ষা বোর্ডের বাণিজ্যিক স্বার্থে। আর এতে করে নানামুখী ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষককে। আর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এমনটা করতে হচ্ছে তাদের। বিড়ম্বনার বিষয়টি জানা থাকলেও এই বিষয়ে কিছুই করার নেই। অন্যদিকে শিক্ষকরা বলছেন, আরও পর্যালোচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার।
বর্তমানে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে মোট তিন দফায় রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীকে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীকে বিলম্ব ফি ছাড়া ১৮৪ ও বিলম্ব ফিসহ ২৩৩ টাকা, অষ্ঠম শ্রেণিতে বিলম্ব ফি ছাড়া ১৯১ ও বিলম্ব ফিসহ ২৪১ টাকা গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক কল্যাণ তহবিলের জন্য। অন্যদিকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা নেওয়া হলেও বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সরবরাহ করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, স্কুল থেকে কার্ড ডাউনলোড করে সেটি প্রিন্ট করিয়ে দিতে। এজন্য আবার আলাদা করে টাকা গুনতে হচ্ছে। আবার এসব রেজিস্ট্রেশনের সংশোধনের বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ারে রাখা হয়েছে।
এসব কারণে নানামুখী ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের। বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ছয় জন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশের। তাদের মতে, একবার রেজিস্ট্রেশন করে সেটি দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে পারে শিক্ষার্থীরা। এখন তিন দফায় রেজিস্ট্রেশনের বাড়তি কাজের চাপ যোগ হচ্ছে স্কুলে। এমনিতেই শিক্ষক ও লোকবল সংকটে জর্জরিত বিদ্যালয়ে এই চাপÑ শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও ব্যাহত করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষা বোর্ড ফি নিচ্ছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিচ্ছে সফট কপি। বলা হচ্ছে, আমরা যেন প্রিন্ট করে দিই। তাহলে তারা টাকা নিচ্ছে কেন? শিক্ষক কল্যাণ তহবিলের জন্য শিক্ষকদের বেতন থেকে টাকা কাটা হয়। আবার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো অতিমুনাফার মানসিকতা।
অন্যদিকে শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই করতে হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ের হিসাবের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা হয়, কেউ ঝরে পড়ল কি নাÑ সেটি যাচাই করতে অষ্টম এবং এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা লাগে। অন্যদিকে সরকারের ফান্ড সংকটের কারণে শিক্ষক কল্যাণ তহবিলে শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অন্যদিকে সংশোধনের এখতিয়ারের বিষয়টি বোর্ডে রাখা নিয়ে তারাও বিরক্ত। এমনিতেই এসএসসি ও এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের চাপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বোর্ডের ভোগান্তির বিষয়টি সর্বজনবিদিত। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ও অষ্টম শ্রেণির সংশোধনের বিষয়টি বোঝার ওপর ‘শাকের আঁটি’র মতো। গত বছরে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংশোধনীর ৪৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে হয়েছে বোর্ডকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
তবে এসব দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন না শিক্ষকরা। দক্ষিণ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কারিমুল মাওলা বলেন, একটা রেজিস্ট্রেশন দিয়েই সব সম্পন্ন করা সম্ভব। যেহেতু পুরো মাধ্যমিকে একটাই পাবলিক পরীক্ষা আছে। এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করলে সেটি দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, আর্থিক মুনাফা ছাড়া এখানে বিশেষ কোনো লাভ নেই। মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।