× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মামলায় বন্ধ ৮ সেতুর নির্মাণকাজ

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পিএম

যশোর সদর উপজেলার ভৈরব নদের ওপর কম উচ্চতায় সেতু নির্মাণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ছাতিয়ানতলা সেতু নির্মাণকাজ। প্রবা ফটো

যশোর সদর উপজেলার ভৈরব নদের ওপর কম উচ্চতায় সেতু নির্মাণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ছাতিয়ানতলা সেতু নির্মাণকাজ। প্রবা ফটো

কম উচ্চতায় সেতু নির্মাণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার কারণে সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে যশোর জেলার চারটি নদীর ওপর নির্মিত আটটি সেতুর কাজ। ফলে নদীর দুই পাড়ের লাখো মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো বা নৌকায় পারাপারই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা সেতুগুলো হলোÑ যশোর সদর উপজেলার ভৈরব নদের ওপর দায়তলা সেতু, রাজারহাট হামিদপুর সেতু ও ছাতিয়ানতলা সেতু; শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর ওপর নাভারণ গোড়পাড়ায় দুটি সেতু; মনিরামপুর উপজেলার শ্রী নদীর ওপর মনিরামপুর-নেহালপুর সেতু এবং মুক্তেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু। ২০২১ সালে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ডব্লিউবিআিইপি)-এর আওতায় এসব সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। 

প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয় ৪১ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি)। পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুগুলোর নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়া কম উচ্চতায় সেতু নির্মাণ করায় ‘ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন’ ও পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ জানায় এবং আদালতে রিট দায়ের করে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেতুগুলোর উচ্চতা ৪ দশমিক ৫৯ ফুট থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথ নয়। বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির নৌপথে সেতুর উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৬০ ফুট, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ ফুট, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫ ফুট এবং চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তত ১৬ ফুট। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং ছয় মাসের মধ্যে যথাযথ শর্ত মেনে কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরও সাড়ে তিন বছর পার হলেও শুরু হয়নি কাজ। 

যশোরের ছাতিয়ানতলা এলাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কচুয়া-ছাতিয়ানতলা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলায় আটকে যায় সেতু নির্মাণের কাজ। সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কাজ। শুধু কচুয়া আর ছাতিয়ানতলা নয়; জেলার চারটি নদীর ওপর নির্মিত ৮টি সেতুর একই দশা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সেতুগুলোর ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে গড় অগ্রগতি প্রায় ৭৮ শতাংশ হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো কাজ এগোয়নি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সার্ভে করে সেতুগুলোকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। এরপর পরিবেশ ও ভৈরব আন্দোলনের নেতারা হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলায় সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে সেতু নির্মাণের কাজ।

সম্প্রতি সদর উপজেলার ভৈরবের ওপর নির্মাণাধীন দায়তলা সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাজ বন্ধ। নদীর ওপর অস্থায়ী সাঁকো ও পাটাতন দিয়েই চলছে যাতায়াত। কোথাও কোথাও স্কুলগামী শিশুরা, বৃদ্ধ ও রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ী-চাষিদের ক্ষতি হচ্ছে পণ্যের পরিবহন বিলম্বে হওয়ায়। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে মামলা নিষ্পত্তি করে অথবা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় কাজ শুরু করা হোক। 

সাবেদ আলী নামে আশি বছরের এক বৃদ্ধ বলেন, জন্মের পর থেকে শুনে আসছি এখানে ব্রিজ হবে। তিন-চার বছর আগে কাজ শুরু হলো, কিছুটা কাজ হলো, তারপর বন্ধ হয়ে গেল। শুনেছি কেউ মামলা করেছে। জানি না এ জীবনে ব্রিজটা হয়ে এপার-ওপার যেতে পারব কি না।

ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান বলেন, বিধি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ জলপথে প্রথম শ্রেণির নৌপথের ক্ষেত্রে সেতুর উচ্চতা হবে কমপক্ষে ৬০ ফুট, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ ফুট, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫ ফুট এবং চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তত ১৬ ফুট। কিন্তু যশোরের নির্মাণাধীন সেতুগুলো ৪ দশমিক ৫৯ ফুট থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার। নদী মেরে সেতু নির্মাণ চলছিল বিধি না মেনে। তাই জনস্বার্থে আমরা আদালতে মামলা করি। ভুল করেছে তারা, ভোগান্তি হচ্ছে জনগণের।

এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন ও পরিবেশবাদী সংগঠন আদালতে মামলা করলে সেতুগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা