প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
জাতীয় সংসদের আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে দেশের তিনটি এলাকায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। ফরিদপুর, বাগেরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর
ভাংগা (ফরিদপুর) : ফরিদপুর-৪ আসনের আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাংগায় আবারও সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা চলে এই অবরোধ কর্মসূচি।
এর ফলে ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল ও ভাংগা-ফরিদপুর মহাসড়কসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নতুন আসন সীমানা অনুযায়ী, ফরিদপুরের ভাংগা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে ৪টি আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মিলিত হয়। পরে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত কমিটির কো কনভেনর এম.এ সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জেলা জামায়েতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমীর আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারী শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, বিএনপি নেতা সৈয়দ নাসির উদ্দিন মালেক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রক্রিয়ায় চারটি আসনকে তিনটি করেছে এবং কাটা ছাটা করে জগাখিচুরি পাকিয়েছে, তা নির্বাচন সীমানা নির্ধারনের আইনের ৬ ধারা পরিপন্থি। এতে বাগেরহাটবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবো। বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল থাকবে বলে জানান বক্তারা।
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের অন্তর্গত দুইটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুইপাশে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে যান চলাচল শুরু করে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্তর এলাকায় সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদ এর নেতাকর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন অংশ নেন।