শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৩ পিএম
কিশোর গ্যাং লিডার পিস্তল রুবেল।
গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় ওষুধ (ফার্মেসি) ব্যবসায়ী হাসিবুল ইসলাম বাদশা (৪০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাং লিডার পিস্তল রুবেলসহ (৩০) তার দুই সহেযাগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, দ্রুত বিচার এবং মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যার আট মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেনÑ কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার আলী আকবরের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার রুবেল তার দুই সহযোগীসহ একই এলাকার শামীমের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০) এবং হাজাঙ্গীর হোসেনের ছেলে সজীব হোসেন (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিলভার কালারের একটি এলিয়ন প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ব্যবসায়ী বাদশাকে হত্যার পর প্রধান আসামি পিস্তল রুবেল দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময় স্থান পরিবর্তন করে পলাতক ছিল। গোপন সূত্রে জানতে পারি সোমবার রাতে সে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে পুলিশের একাধিক টিম তার বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পূর্ব থেকে তৈরি করা তার ঘরে থাকা সুরঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ওই সুরঙ্গের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে বের হওয়ার সময় রুবেলসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পরদিন ব্যবসায়ী হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি মাওনা চৌরাস্তা (মসজিদ মোড়) দারগারচালা এলাকার আলী আকবরের ছেলে অন্তর (২০) এবং মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে রুমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তবে, তাদের জামিন হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসা থেকে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা (মসজিদ মোড়) এলাকার বাসায় আসে। গাড়ি থেকে তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নেমে যাওয়ার পর কিশোর গ্যাং প্রধান রুবেলসহ ৭-৮ জন সহযোগী মাইক্রোবাসের সামনে এসে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে তারা ব্যবসায়ী হাসিবুল ইসলাম বাদশাকে কিল-ঘুসি মারলে সে মাটিতে পড়ে যায়। স্বজনরা তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।