চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৩:৫১ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৩:৫১ পিএম
প্রবা ফটো।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) বর্তমান প্রশাসককে অপসারণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ব্যবসায়ী ফোরাম। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।
বৈষম্যবিরোধী ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বৈষম্যবিরোধী ব্যবসায়ী ফোরামের নেতৃবৃন্দের তীব্র আন্দোলনের মুখে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পদত্যাগে বাধ্য হলে সরকার কর্তৃক চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসক যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হন। তদুপরি চেম্বারের মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন উপেক্ষা করে ৩০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদস্যপদ নবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রশাসক নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করেন, যা বিধিবহির্ভূত, সদস্যদের অধিকার-পরিপন্থী, পক্ষপাতমূলক, অস্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নীতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. মশিউল আলম স্বপন ও মো. দিদারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ পাদুকা শিল্প মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. এরশাদুল হক কোরেশী, বাংলাদেশ ব্রিকফিল্ড অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বাবলু, আইন সম্পাদক এসএম ফরিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য মো. শাহনেওয়াজ রুমি, মো. মেজবাহ উদ্দিন, মো. সরোয়ার আলম, জেসি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সালাউদ্দিন, নারী উদ্যোক্তা জেসমিন খানম, বাস কাউন্টার মালিক সমিতির সহসভাপতি জানে আলমসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা।
তারা বলেন, অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের প্রশাসকরা যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিতদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও চিটাগাং চেম্বারের প্রশাসক তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সদস্য অন্তর্ভুক্তি ফি ও সদস্যপদ নবায়ন ফি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হলেও তা কমানোর ব্যাপারে প্রশাসক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চেম্বারের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ জনের অধিক। কিন্তু তড়িঘড়ি করে ১১ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় সময়সল্পতা ও যথাযথ প্রচারের অভাবে মাত্র ৬ হাজার ৭৬৫ জন সদস্য তাদের পদ নবায়ন সম্পন্ন করতে সক্ষম হন, যা মোট সদস্যের ৫০ শতাংশেরও কম।
বৈষম্যবিরোধী ব্যবসায়ী ফোরামের নেতাদের অভিযোগÑ বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অতীতে সুবিধাভোগী কোনো মহলের প্রভাবের ধারাবাহিকতা বলেই প্রতীয়মান। তাই বর্তমান প্রশাসককে অপসারণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি চেম্বারের মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী সদস্যপদ নবায়নের সময়সীমা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বর্ধিত করে পুনঃতফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সকল সদস্যকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ভেঙে যায় চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক বোর্ড। পরিচালকের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় শতবর্ষী এই ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রশাসক পদে তৎকালীন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশাকে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথমে ১২০ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে তার মেয়াদ আরেক দফায় বাড়ানো হয়।