রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:৪৩ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি কিংবা গণগ্রেপ্তার করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার আস্তানার ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে আস্তানায় হামলা ও পুলিশের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত ডিআইজি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হাজার হাজার লোক অংশ নিতে পারে। কিন্তু যখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অশান্ত হয়ে যায়, তখন সবার সম্পৃক্ততা থাকে না। তাই সবাইকে আসামি করা বা গ্রেপ্তার করা আইনসঙ্গত নয়। যারা আইনশৃঙ্খলা ভেঙেছে, কেবল তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, যার অপরাধ খুঁজে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাতে যদি কেউ প্রশাসনে থাকে বা প্রশাসনের বাইরেও থাকে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবকিছু আমরা করছি সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে। ভিডিও ফুটেজসহ তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুর পৌনে একটার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট মাজার থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
দুজনের জবানবন্দি, গ্রেপ্তার বেড়ে ১৪
নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র আস্তানা ও পুলিশের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় সোমবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বেপারীপাড়ার মৃত আইয়ুব আলী গাজীর ছেলে আলমগীর গাজী (৪৫), নজর উদ্দিন সরদারপাড়ার ইসহাক সরদারের ছেলে সোহান সরদার (৩৩) এবং দেওয়ানপাড়ার নেকবার আলী শেখের ছেলে রিয়াজ হোসেন রিতান্ত (২১)।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারকের কাছে দুজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে কাজীপাড়ার কাজী অপু রবিবার জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি কবর থেকে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ উত্তোলন, লাশ বিকৃতি ও পুলিশের ওপর হামলার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আদর্শগ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে বিল্লু সোমবার জবানবন্দিতে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের কথা বলেছেন। তাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।