নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় স্বনামধন্য আত্রাই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজকে যৌনপল্লী আখ্যায়িত করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- প্রতিষ্ঠানটির প্রভাষক নাসরিন আরা, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, মোস্তাফিজুর রহমান তোতা, নিলুফা ইয়াসমিন, সাইদুর রহমান, শিক্ষার্থী ফারাজনা ইয়াসমিন, আরাবী আন্তুম, তাসিন আহনাফ এবং অভিভাবক প্রতিনিধি নাসিমা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে আমাদের বিদ্যালয়কে ‘যৌনপল্লী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন- যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানহানিকর। এ ধরনের অপমানজনক মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।
তারা আরও বলেন, যদি প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারত। কিন্তু তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এমন ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গর্হিত মন্তব্য আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ১ হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকরা পাঠদান করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও ভালো। ইতোমধ্যে উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। আবার যারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তার পরিবারেরও মা-বোন থাকতে পারে। তাহলে কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘যৌনপল্লী’ বলে আখ্যায়িত করতে পারে, তাও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই? যদি তার কাছে কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করুন। আর যদি না থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. বুলবুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মিথ্যা ও অশোভন মন্তব্য করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি কেবল মানহানির উদ্দেশ্যে এমন আচরণ করতে পারেন না। যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে আমাদের পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এমন অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।