বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:১৩ পিএম
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায়, দালালচক্রের তৎপরতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ভর্তি পর্যন্ত রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। রোগী বহনের ট্রলি বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, টাকা না দিলে রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়া হয় না। ভর্তি হওয়ার পর দালালচক্র সক্রিয় হয়, খাবারের মান খারাপ, টয়লেট-বাথরুম অপরিচ্ছন্ন থাকে। এসব কারণে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের খোকসাবাড়ী গ্রামের অটোরিকশাচালক নুরুন্নবী বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে ভর্তি করালেও টাকা খরচ করতে না পারায় সময়মতো অপারেশন হয়নি, এতে গর্ভের সন্তান মারা যায়। কাহালুরের ছাত্র কে এম নুরুল্লাহ অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে ভর্তি হলেও সঠিক চিকিৎসা পাননি।
পুরান বগুড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, হাসপাতালে এখনও আগের আওয়ামী সিন্ডিকেট বহাল আছে। তিনি বলেন, ঠিকাদার জাহিদুল করিম রিপু এসব অনিয়মে জড়িত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার জাহিদুল করিম রিপু বলেন, ‘আমি ঠিকাদারি কাজ করি, রোগীদের দুর্ভোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক কারণে সব দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়েছে।’
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহসিন আলী বলেন, ‘৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে সব সময় প্রায় দুই হাজার রোগী থাকে। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে গড়ে চারজন স্বজন থাকেন। এত রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মতো জনবল আমাদের নেই। তারপরও আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাবারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ১৭৫ টাকা, বর্তমান বাজারে এতে তিনবেলা মানসম্পন্ন খাবার দেওয়া কঠিন। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে সেবা উন্নয়নে চেষ্টা চলছে।’