বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি আসন কমানোর প্রতিবাদে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলাব্যাপী চলছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। জেলা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহবানে এই হরতাল চলাকালে বাগেরহাট থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ৪৮টি দূরপাল্লার রুট ও আন্তজেলা রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ বয়েছে। একইভাবে সব উপজেলা সদর ও পৌর শহরেও সর্বাত্মক হরতাল চলছে।
সড়ক পথে মোংলা বন্দরের মালামালা আনা-নেওয়ার কাজও বন্ধ রয়েছে। সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দরসহ বাগেরহাট জেলা সরাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী, সর্বস্তরের মানুষ সকালে হরতাল চলাকালে জেলা সদরসহ সব উপজেলার নির্বাচন অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
হরতাল চলাকালে শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক বীমা ও সরকারি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মোরেলগঞ্জে পানগুছি ও মোংলা নদীতে সড়ক বিভাগের ফেরি চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
হরতাল চলাকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, দশানী মোড়, খান জাহান আলী (রহ.) মাজার মোড়, মুনিগঞ্জ সেতু ও দড়াটানা সেতু টোল প্লাজা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নির্বাচন অফিস ও জজ আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন কমিয়ে তিনটি নির্ধারণ করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ফুসে ওঠে বাগেরহাটের জনগণ। গত ৭ সেপ্টেম্বর সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা দেয়।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহবায়ক এম এ সালাম বলেন, মোংলা বন্দরসহ অর্থনৈতিক অবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থার কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করেই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন কমিয়েছে। বাগেরহাটের চারটি আসন ফিরে পেতে সবকিছুই করবে সর্বস্তরের জনগণ। অবিলম্বে দাবি মানা না হলে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশন জনগণের দাবি উপেক্ষা করে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্বাচন কমিশন যেন কিছুই কানে শুনছেন না। যাতে কানে শুনতে পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে এর দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।