বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:০৪ পিএম
দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো এলাকায় সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে অবরোধ এ কর্মসূচি শুরু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের অন্তর্ভুক্ত বিজয়নগর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে যুক্ত করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এর প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এর ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশে অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। পরে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে বিকাল পাঁচটায় অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে দীর্ঘ সময় যানজটের কারণে গাড়ির চাপ বেড়ে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বিজয়নগরের চান্দুরা, হরষপুর ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) থেকে পৃথক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করে। এর প্রতিবাদে গেল কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও।
পরে গত ২৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর হরষপুর ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ফিরে নিয়ে দুইটি ইউনিয়ন চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর রবিবার সকাল থেকে পুনরায় অবরোধ ঘোষণা করে সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ। অখণ্ড বিজয়নগর রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আফজাল হোসেন ও ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র চলছে। এরইমধ্যে পৃথক করা দুটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে প্রায় ৭ ঘণ্টা অবরোধের ফলে সৃষ্ট তীব্র যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। যানজট পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন যাত্রীরা।
সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, ‘বিজয়নগরের দুইটি ইউনিয়নকে পৃথক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল -আশুগঞ্জ) আসনে যুক্ত করার কারণে এখানকার বাসিন্দারা উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটি কোনোভাবেই মানা যায় না। অতীতেও বিজয়নগরের এ তিন ইউনিয়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে।’
অবিলম্বে অখণ্ড বিজয়নগর রক্ষা করে পুরো উপজেলাকে একত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে অন্তর্ভুক্ত না করলে আরও কঠোর আন্দোলনে কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে মহাসড়কের চান্দুরা ডাকবাংলো এলাকায় উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ। পরে তার আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন।