‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ সংবাদ প্রকাশ
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:০১ পিএম
প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীর আলেকজান্ডার ঘাট পয়েন্টে বিআইডব্লিউটিএ’র (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) নাম ব্যবহার করে অবৈধ চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রামগতি উপজেলা প্রশাসন, থানা, নৌ-থানা ও লক্ষ্মীপুর কোস্টগার্ডকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, “গত ০১–০৮–২০২৫ তারিখে ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন ঘাট থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণরূপে আইনবিরুদ্ধ। কেউ যদি বিআইডব্লিউটিএ’র নাম ব্যবহার করে শুল্ক বা চাঁদা আদায় করে, তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যিনি ইজারা পেয়েছিলেন, তিনি একদিনের জন্যও ঘাটে যাননি বা শুল্ক আদায় করেননি। তার নাম ব্যবহার করে যারা শুল্ক আদায় করছেন, তারা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করছেন এবং তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া, গত ২০ জুলাই ইজারা বাতিল হওয়ায় এখন আর কোনো চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত ঘাটে নতুন কোনো ইজারা দেওয়া হবে না।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ ইতিমধ্যে যাত্রী সাধারণের সুবিধার জন্য ঘাটে জেটি ও পন্টুন স্থাপনের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, “প্রতিদিনের বাংলাদেশ” পত্রিকায় “রামগতিতে বিআইডব্লিউটিএ’র যোগসাজশে চাঁদাবাজি” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এরপরই বিআইডব্লিউটিএ তাৎক্ষণিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এখনও রামগতির এ এলাকাকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়নি। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র মোজুচৌধুরীরহাট নদীবন্দর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাঁধের সোয়া দুই কিলোমিটার এলাকা ‘ট্যুরিস্ট জোন’ ঘোষণা করে কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইজারা প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলম ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইজারা প্রদান করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। এই ইজারার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে। স্পিডবোট, অটো, দোকানদার, হকার ও সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল পর্যটন উন্নয়নের নামে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।